চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, ওয়ান শুটারগান ও গুলিসহ নাছির উদ্দীন (৪৩) নামে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ধলই ইউনিয়ন শাখার এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযানে তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, একটি ওয়ান শুটারগান বা এলজি এবং ১১ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে হাটহাজারী উপজেলার পশ্চিম ধলই এলাকায় নাছির উদ্দীনের নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম ও ট্রাফিক) মো. রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, নাছির উদ্দীনের বসতঘরে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত থাকার তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত পেরিয়ে ভোরের দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁর বাড়িতে যান। তল্লাশির একপর্যায়ে শয়নকক্ষের স্টিলের আলমারির ড্রয়ার থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটারের চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
একই কক্ষের স্টিলের আলমারির নিচের ড্রয়ারে পাওয়া যায় একটি ওয়ান শুটারগান বা এলজি এবং সাত রাউন্ড তাজা শটগানের কার্তুজ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা কার্তুজগুলোর গায়ে ‘শক্তিমান এক্সপ্রেস মেড ইন ইন্ডিয়া’ লেখা রয়েছে।
অভিযানের পর নাছির উদ্দীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের কাছে দেওয়া তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাউজানের বাসিন্দা মো. তৈয়ব নামের এক বন্ধু প্রায় তিন থেকে চার মাস আগে বিদেশে যাওয়ার সময় অস্ত্র ও গোলাবারুদগুলো তাঁর কাছে রেখে যান। তৈয়ব বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর সেগুলো নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল বলে নাছির উদ্দীন পুলিশকে জানিয়েছেন।
তবে অস্ত্র ও গোলাবারুদ তাঁর কাছে কেন রাখা হয়েছিল, সেগুলোর উৎস কী এবং সেগুলো আগে কোথাও ব্যবহার করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বৈধ কোনো কাগজপত্র ছিল কি না, সে বিষয়টিও মামলার তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।
অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় নাছির উদ্দীন ও তাঁর কথিত বন্ধু মো. তৈয়বের বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলায় তৈয়বকে পলাতক আসামি করা হয়েছে। তাঁকে গ্রেফতারে পুলিশের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের অভিযানে একই স্থান থেকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একটি বিদেশি পিস্তলের পাশাপাশি ওয়ান শুটারগান, ম্যাগাজিন ও বিভিন্ন ধরনের গুলি-কার্তুজ পাওয়ায় মামলার তদন্তে অস্ত্রগুলোর প্রকৃত মালিকানা ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে গ্রেফতার নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মামলার তদন্তে তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাই করা হবে এবং পলাতক তৈয়বের সঙ্গে অস্ত্রগুলোর সম্পর্ক ও পুরো ঘটনার বিস্তারিত তথ্য বের করার চেষ্টা করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।









