বগুড়ায় একই দিনে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত ও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। প্রথম দুর্ঘটনায় বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হন। পরে তাদের মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি ফেরার সময় আরেকটি গাড়ির ধাক্কায় ওই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা এক নারী নিহত হন। দুই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একজন কিশোরও রয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে বগুড়া সদর উপজেলার ঠেঙ্গামারা এলাকায় টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে। এর কিছু সময় পর বগুড়ার রানীরহাট এলাকায় দ্বিতীয় দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিল। হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে একটি বাস অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর অটোরিকশার যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই শফিকুল ইসলাম ও আরাফাত মারা যান।
নিহত শফিকুল ইসলাম (৪৫) বগুড়ার কাহালু উপজেলার রামপুর এলাকার বাসিন্দা। নিহত আরাফাতের বয়স ১৬ বছর। তিনিও একই এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা আরও তিনজন আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রথম দুর্ঘটনায় দুই স্বজনকে হারানোর পর তাদের মরদেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন পরিবারের সদস্যরা। একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে শফিকুল ইসলাম ও আরাফাতের মরদেহ নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু বাড়ি ফেরার সেই পথেই ঘটে আরও একটি দুর্ঘটনা।
বগুড়ার রানীরহাট এলাকায় পৌঁছালে একটি গাড়ি মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা খাদিজা খাতুন (৫২) গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান। তিনি বগুড়া সদর উপজেলার বানদীঘী এলাকার বাসিন্দা। দ্বিতীয় দুর্ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রইচ উদ্দিন বলেন, সকালে পাঁচজনকে নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিল। হাসপাতালের সামনে একটি বাস অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দিলে শফিকুল ইসলাম ও আরাফাত ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রথম দুর্ঘটনার পরের ঘটনাটিও একই পুলিশ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত দুজনের মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে রানীরহাট এলাকায় আরেকটি গাড়ি অ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা দিলে খাদিজা খাতুন নিহত হন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
দুটি দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে হাইওয়ে পুলিশ। কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট সাগর আলী জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহন শনাক্তে কাজ চলছে। পাশাপাশি ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহন শনাক্ত হওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
একই দিনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া দুটি দুর্ঘটনায় মোট তিনজনের মৃত্যু এবং ছয়জন আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রথম দুর্ঘটনার পর আহতদের হাসপাতালে নেওয়া, নিহতদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া এবং সেই পথেই দ্বিতীয় দুর্ঘটনা—পুরো ঘটনাটি স্বজনদের জন্য পরিস্থিতিকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে।
তবে দুটি দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল, সংশ্লিষ্ট যানবাহনের চালকদের ভূমিকা কী এবং কোন পক্ষের গাফিলতি ছিল কি না—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো তথ্য দেয়নি পুলিশ। তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার কারণ ও জড়িত যানবাহন শনাক্ত করার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।









