,

গেইলের রেকর্ড ভেঙে টি-টোয়েন্টিতে পিটোরিয়াসের ইতিহাস

ব্লুমফন্টেইনে ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন লুয়ান-দ্রে পিটোরিয়াস। সিএসএ টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জে নাইটসের বিপক্ষে মাত্র ৭৯ বলে ১৮৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই তরুণ ওপেনার। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংয়ে টাইটানসও পেয়েছে ১২৪ রানের বড় জয়।

ম্যাচে টসের পর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে টাইটানস শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেছে। তবে দলের ইনিংসের মূল আকর্ষণ ছিলেন পিটোরিয়াস। বাঁহাতি এই ব্যাটার ৭৯ বলের ইনিংসটি সাজান ১৫টি চার ও ১৩টি ছক্কায়। তাঁর ব্যাটিংয়ের গতি ছিল এমনই যে, প্রতিটি মাইলফলক এসেছে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে।

মাত্র ২৪ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন পিটোরিয়াস। এরপর আর মাত্র ১৬ বল খেলে পৌঁছে যান শতরানে। ১৫০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করতে তাঁর লাগে ৫৮ বল। শেষ পর্যন্ত ১৮৮ রানে থামেন তিনি। অর্থাৎ টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো কোনো ব্যাটারের ডাবল সেঞ্চুরি দেখার সুযোগ থেকে মাত্র ১২ রান দূরে ছিলেন ২০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

এই ইনিংসের মধ্য দিয়ে পেছনে পড়ে গেলেন টি-টোয়েন্টির অন্যতম বড় তারকা ক্রিস গেইল। ২০১৩ সালের আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে তৎকালীন পুনে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ৬৬ বলে অপরাজিত ১৭৫ রান করেছিলেন ক্যারিবীয় কিংবদন্তি। দীর্ঘ ১৩ বছর সেই ইনিংসই ছিল পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড। এবার ১৩ রান বেশি করে সেই মাইলফলক নিজের করে নিলেন পিটোরিয়াস।

শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ডেই থামেনি তাঁর দাপট। পিটোরিয়াসের ১৮৮ রানের ওপর ভর করে টাইটানস ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৬৭ রান সংগ্রহ করে। সিএসএ টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। প্রতিযোগিতাটিতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ডও টাইটানসের দখলে—৩ উইকেটে ২৭১ রান।

জবাবে নাইটস কোনো পর্যায়েই লক্ষ্যের কাছাকাছি যেতে পারেনি। তাদের ইনিংস গুটিয়ে যায় ১৪৩ রানে। ফলে ১২৪ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় টাইটানস। দলের বিশাল সংগ্রহের পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে কম রানে আটকে রাখায় জয়টিও হয়েছে একতরফা।

পিটোরিয়াসের এই রেকর্ড গড়া ইনিংস তাঁর সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতারও আরেকটি প্রমাণ। ২০২৬-২৭ মৌসুমে এটিই ছিল তাঁর প্রথম ম্যাচ। এর আগে গত মাসে নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যাট হাতে নজর কেড়েছিলেন তিনি। সেখানে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল ৯৪ ও ১০১ রানের দুটি ইনিংস। সেই ছন্দই এবার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতেও ধরে রাখলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও এরই মধ্যে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন পিটোরিয়াস। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এখন পর্যন্ত ২২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে এবং ১৭টি টি-টোয়েন্টি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৫৪.৫৮, যা তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ধরনকে স্পষ্ট করে।

তবে পিটোরিয়াসের রেকর্ড গড়ার গল্প শুধু টি-টোয়েন্টিতে সীমাবদ্ধ নয়। অল্প বয়স থেকেই তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে আলোচনায়। স্কুল ক্রিকেটে নজর কাড়ার পর মাত্র ১৭ বছর বয়সে পেশাদার ক্রিকেটে পা রাখেন তিনি।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও তাঁর অভিষেক হয়েছিল সেঞ্চুরি দিয়ে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে টাইটানসের হয়ে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে প্রথম শ্রেণির অভিষেক ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ১২০ রান করেন পিটোরিয়াস। অর্থাৎ পেশাদার ক্রিকেটের শুরু থেকেই বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্যের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।

টেস্ট ক্রিকেটেও খুব দ্রুত নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় তুলেছেন এই তরুণ। গত বছর জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেন পিটোরিয়াস। ১৯ বছর ৯৩ দিন বয়সে শতক করে দক্ষিণ আফ্রিকার ১৩৬ বছরের টেস্ট ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার রেকর্ড গড়েন তিনি।

এবার টি-টোয়েন্টিতেও সেই রেকর্ডের তালিকায় যুক্ত হলো তাঁর নাম। ক্রিস গেইলের ১৭৫ রানের দীর্ঘদিনের রেকর্ড পেছনে ফেলে ১৮৮ রানে পৌঁছেছেন পিটোরিয়াস। এক ইনিংসেই গড়েছেন নতুন বিশ্বরেকর্ড, দলকে এনে দিয়েছেন বড় জয় এবং নিজের সাম্প্রতিক ফর্মের ধারাবাহিকতাও ধরে রেখেছেন।

শুধু একটি আক্ষেপ থেকেই গেল—আর ১২ রান। সেটুকু করতে পারলেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে ইতিহাসে নাম উঠত লুয়ান-দ্রে পিটোরিয়াসের। তবে ১৮৮ রানই তাঁকে এমন এক রেকর্ডের মালিক করেছে, যেটি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ধরে রেখেছিলেন ক্রিস গেইল।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।