জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

গৃহবধূ ও প্রতিবন্ধীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, সিলেট-ডোমারে চাঞ্চল্য

দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী নির্যাতনের পৃথক দুটি মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে। সিলেটের গোয়াইনঘাটে স্বামীর বন্ধুদের দ্বারা এক গৃহবধূ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে, নীলফামারীর ডোমারে রাতের আঁধারে ঘরের বেড়া কেটে এক তরুণীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। দুটি ঘটনাতেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজেই চারজনকে আসামি করে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর স্বামী একটি মামলায় বর্তমানে কারাবন্দি রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামিরা কৌশলে ওই গৃহবধূকে ডৌবাড়ী ইউনিয়নের নগর ডেংরী এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে নেহাল আহমদ নামের এক ব্যক্তি প্রথমে দরজা বন্ধ করে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। এরপর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নেহাল তার সহযোগীদের জন্য ঘরের দরজা খুলে দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে মো. মাসুক আহমদ, জুবের আহমদ এবং মো. নিজাম উদ্দিন পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করেন। পাশবিক এই নির্যাতনের পুরো সময়টিতে অন্যরা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখে। নির্যাতন সইতে না পেরে ভুক্তভোগী নারী তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। সংবাদ পেয়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে নেহাল ও মাসুককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক মোড়ল জানান, এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপরদিকে, নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় আরেকটি ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আরমান হোসেন ও লাজু নামে দুই যুবক ঢাকায় রড মিস্ত্রির কাজ করেন। ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী তরুণীর ভাবি জানান, ঘটনার রাতে একটি ট্রেনযোগে ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল। সেই সুবাদে অভিযুক্তরা পরিকল্পনা করে গভীর রাতে ওই বাড়িতে হানা দেয়।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্তরা ঘরের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশ করে এবং অসহায় তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ভুক্তভোগী চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়দের টের পাওয়ার আগেই তারা বেড়া ভেঙে পালিয়ে যায়। তরুণীর ভাই সুবল তাৎক্ষণিকভাবে চিলাহাটি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন আলামত ও আসামিদের কাপড়ের ব্যাগ জব্দ করে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ নিশ্চিত করেছেন যে, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে রাতেই একটি মামলা দায়ের করেছেন।
Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর