চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার হাজীপাড়া এলাকায় নিজ বাসার ভেতর গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহিদ হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে ইমাম হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত শাহিদ হোসেন হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম প্রয়াত ইকবাল হোসেন এবং মায়ের নাম মমতাজ বেগম। স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শাহিদকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁর জীবন রক্ষার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালে শাহিদকে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাসার ড্রয়িংরুমে থাকা একটি পিস্তল দিয়ে তিনি নিজের মাথায় গুলি করেন। গুলির শব্দ শোনার পর পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন এবং তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে গুলিবর্ষণের সঠিক পরিস্থিতি, ঘটনার সময় বাসায় কারা ছিলেন এবং অস্ত্রটি কীভাবে সেখানে এল—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ডবলমুরিং থানার উপপরিদর্শক মো. গফুর মিয়া জানান, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শাহিদ হোসেনের মৃত্যু নিজের গুলিতেই হয়েছে। তিনি নিজেই নিজের মাথায় গুলি করেছিলেন বলে পুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে ঘটনার পেছনে কী কারণ ছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটির উৎস ও মালিকানা নিয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনাটিকে ঘিরে পুলিশের তদন্তে বেশ কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শাহিদ যখন গুলিবিদ্ধ হন, তখন তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ ছিলেন কি না, পিস্তলটি তাঁর নিজের ছিল কি না, অস্ত্রটির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে কি না এবং গুলিবর্ষণের আগে কোনো বিরোধ, পারিবারিক চাপ বা অন্য কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হতে পারে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামত, অস্ত্রের অবস্থান এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
শাহিদ হোসেন কয়েক বছর আগে একটি ব্যাংকে চাকরি করতেন। প্রায় দুই বছর আগে তিনি ওই চাকরি ছেড়ে দেন। চাকরি ছাড়ার পর তাঁর পেশাগত জীবন কেমন ছিল বা বর্তমানে তিনি কী করতেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি সম্পর্কেও তদন্তের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে।
আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে কোনো একটি কারণ ধরে নেওয়ার আগে পুলিশ সাধারণত অস্ত্রের উৎস, মালিকানা, গুলির ধরন এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি যাচাই করে। এ ক্ষেত্রেও একই ধরনের তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে ঘটনাটি আত্মহত্যা, দুর্ঘটনাজনিত গুলিবর্ষণ, নাকি অন্য কোনো পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত—তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও মৃত্যুর ধরন ও গুলির আঘাত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। পাশাপাশি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র বা অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে থাকলে সেগুলোর পরীক্ষার ফল তদন্তে নতুন তথ্য যোগ করতে পারে। পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও ঘটনার আগে শাহিদের আচরণ বা পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হতে পারে।
ঘটনার পর হাজীপাড়া এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ বা ঘটনার প্রকৃতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে।









