রোববার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেল অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছিল। আগুনের তীব্রতা কতটা, গোডাউনের কতটুকু অংশে তা ছড়িয়ে পড়েছে কিংবা আশপাশের কোনো স্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
ঝুটের গোডাউনটিতে আগুন লাগার পরপরই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডে দ্রুত আগুনের বিস্তার ঠেকানো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গোডাউনে সংরক্ষিত দাহ্য উপকরণ আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে কোনাবাড়ীর এই গোডাউনে কী ধরনের ঝুট বা অন্যান্য সামগ্রী মজুত ছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
গাজীপুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। জেলার বিভিন্ন এলাকায় তৈরি পোশাক কারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা গড়ে উঠেছে। পোশাক তৈরির সময় কাপড়ের যে অংশগুলো অবশিষ্ট থাকে, সেগুলো সাধারণত ঝুট হিসেবে সংগ্রহ ও বিক্রি করা হয়। এসব উপকরণ সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন স্থানে গোডাউন ব্যবহৃত হয়। সেখানে বিপুল পরিমাণ কাপড়ের টুকরা বা অন্যান্য দাহ্য সামগ্রী জমা থাকলে আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
শিল্পাঞ্চলে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও আশপাশের বাসিন্দাদের সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বৈদ্যুতিক ত্রুটি, অসতর্কতা কিংবা অন্য কোনো কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছাড়া এ ঘটনায় আগুন লাগার কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করার সুযোগ নেই।
এখন পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, গোডাউনে থাকা মালামালের অবস্থা এবং সম্ভাব্য হতাহতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল বলে সর্বশেষ তথ্যে জানানো হয়েছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বক্তব্যের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্পষ্ট হতে পারে।









