সোমবার সকালে গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ি থানাধীন আমবাগ বাঘিয়া সরকারবাড়ি জামে মসজিদ এলাকায় প্রথম অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে রাসেল মিয়া ও এনামুল হকের মালিকানাধীন ঝুট গুদামে আগুন লাগে। খবর পেয়ে কোনাবাড়ি মডার্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। আগুনে গুদামে সংরক্ষিত ঝুট কাপড়সহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। এ ঘটনায় প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, একই দিন রাতে কোনাবাড়ি থানাধীন আমবাগ ডিস পুকুরপাড় এলাকায় আরেকটি অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সেখানে রনি মিয়ার মালিকানাধীন একটি ঝুট গুদামে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় আনুমানিক ২০ লাখ টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
কোনাবাড়ি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম পৃথক দুটি অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আমবাগ বাঘিয়া এলাকায় এসব ঘটনায় তিনটি ঝুট গুদামের প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঝুট গুদামে সাধারণত পোশাক কারখানায় উৎপাদনের সময় অবশিষ্ট থাকা কাপড়ের টুকরা ও অন্যান্য বস্ত্রবর্জ্য সংরক্ষণ করা হয়। এসব উপকরণ একসঙ্গে বেশি পরিমাণে জমা থাকলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে গুদামে বৈদ্যুতিক সংযোগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি থাকা জরুরি।
কোনাবাড়ির দুটি অগ্নিকাণ্ডে একই দিনে তিনটি গুদামের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আর্থিক ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে রাতের আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও প্রাথমিক হিসাবের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে; চূড়ান্ত মূল্যায়নে তা পরিবর্তিত হতে পারে।








