মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কিনতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন আল আমিন। কথা ছিল, কেক নিয়ে বাড়ি ফিরবেন, মেয়ের বিশেষ দিনটি উদ্যাপনে অংশ নেবেন। কিন্তু সেই আনন্দ আর ফিরে আসেনি। কেক কেনার আগেই চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বাসের চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪০ বছর বয়সী এই সৌদিপ্রবাসী। আগামী রোববার সকালে তাঁর সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের শাহরাস্তি উপজেলার মৌতাবাড়ী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আল আমিন উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা।
আল আমিনের নিকটাত্মীয় বাহারউদ্দিন জানান, আল আমিনের এক মেয়ে রয়েছে। তার জন্মদিনের জন্য কেক কিনতে মোটরসাইকেলে করে হাজীগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। পথে মৌতাবাড়ী এলাকায় একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে আল আমিন ও মোটরসাইকেলের অপর আরোহী হৃদয় (১৯) গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত দুজনকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আল আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হৃদয়কে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিবারের জন্য আল আমিনের এই মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি। প্রবাসে কাজ করে পরিবারের দায়িত্ব পালন করতেন তিনি। দেশে ফেরার পর মেয়ের জন্মদিনে কেক কেনার মতো একটি সাধারণ পারিবারিক কাজেই বের হয়েছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রা আর শেষ করা হয়নি তাঁর। মেয়ের জন্মদিন ঘিরে যে আনন্দের আয়োজন হওয়ার কথা ছিল, তা এখন শোকের স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে।
বাহারউদ্দিন জানান, আগামী রোববার সকালে আল আমিনের সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক দিন পরই কর্মস্থলে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু তার আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হলো। পরিবারের সঙ্গে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কিংবা প্রবাসে ফেরার প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। তবে দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ এবং দায়ী ব্যক্তির বিষয়ে তদন্তের ফলাফল সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি প্রায়ই পরিবারগুলোকে আকস্মিক শোকের মুখে ঠেলে দেয়। বিশেষ করে আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস ও মোটরসাইকেলের মতো যানবাহন পাশাপাশি চলাচল করায় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, গতিসীমা মেনে চলা এবং সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে যথাযথ তদন্তের পাশাপাশি সড়কে নিয়ম মেনে চলা এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করাও জরুরি।
আল আমিনের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবারের স্বজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। যে বাবা মেয়ের জন্মদিনে একটি কেক নিয়ে বাড়ি ফেরার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁর আর ফেরা হলো না। মেয়ের জীবনের আনন্দঘন একটি দিন বাবাকে হারানোর বেদনায় স্মরণীয় হয়ে রইল।









