,

কুমিল্লায় এক রাতের অভিযানে আটক ২৫২, লক্ষ্য কিশোর গ্যাং

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ অভিযানে এক রাতেই ২৫২ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানার পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা সমন্বিতভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন। তবে কোন থানা এলাকা থেকে কতজনকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি জেলা পুলিশ।

শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান। তিনি জানান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় কিশোর গ্যাংবিরোধী নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে—এমন স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, ডিবির সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। কারও বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ, বিভিন্ন মামলায় জড়িত থাকার তথ্য কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

লুৎফুর রহমান বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিশোরেরা যাতে অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে অভিযানের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আগের পাঁচ দফায় আটক দুই হাজারের বেশি

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী সমন্বিত অভিযান শুরু হয় গত ২৩ সেপ্টেম্বর। জেলার ১৮টি থানা ও ডিবির সদস্যদের নিয়ে পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এর আগে ২ অক্টোবর রাতে পঞ্চম দফার অভিযানে ৩৭০ জনকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ২৭৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ৯১ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ওই অভিযানে আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াডের’ প্রধান হিসেবে পরিচিত ইমরান হোসেন ওরফে রতনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের আগের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম পাঁচ দফার অভিযানে মোট ২ হাজার ৪২ জনকে আটক করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৪০৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও অপরাধে সম্পৃক্ততার তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তবে কাউকে আটক করা মানেই তিনি অপরাধে জড়িত, এমন নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। এ কারণে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশের চলমান যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষার্থী অপ্রতিম হত্যার পর জোরদার হয় অভিযান

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদারের পেছনে রয়েছে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ড। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা এলাকায় লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ এবং কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ জেলায় অভিযান জোরদার করে।

কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগের মূল কারণ শুধু অপরাধের ঘটনা নয়; কিশোরদের একটি অংশের অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ, বিভিন্ন মামলায় সংশ্লিষ্টতা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কুমিল্লায় একের পর এক অভিযানের মাধ্যমে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত, ন্যায়সংগত বিচারপ্রক্রিয়া এবং কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কার্যকর সামাজিক উদ্যোগও প্রয়োজন। এতে জননিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।