খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুলাই ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম

ট্রেনে ওঠা নিয়ে তুচ্ছ তর্কের জেরে কুষ্টিয়া কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে বাবা ও ছেলেকে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে ট্রেনেরই এক কন্ডাক্টর গার্ডের বিরুদ্ধে। চালক ও অন্য স্টাফদের উপস্থিতিতে ঘটে যাওয়া এই নৃশংসতার প্রতিবাদে রেললাইনে নেমে পড়েন ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। তোপের মুখে গণধোলাইয়ের ভয়ে ট্রেনের লোকোমাস্টারসহ সব কর্মচারী কাজ ফেলে রেখেই পালিয়ে যান। এতে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ধরে বন্ধ থাকে ট্রেন চলাচল।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টায় ঢাকা থেকে আসা সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে এ রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় আহতরা হলেন চুয়াডাঙ্গার বাসিন্দা আব্দুর রহিম (৬০) এবং তাঁর ছেলে শফিউল আওয়াল সুমন (৪০)।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম নিচু হওয়ায় বৃদ্ধ আব্দুর রহিম, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ট্রেনে উঠতে গিয়ে বেশ বেগ পান। বগিতে জায়গা না পেয়ে তাড়াহুড়ো করে তারা এসি কামরায় গিয়ে দাঁড়ান। এ সময় কোনো কথা না শুনেই তাদের ওপর চড়াও হন কন্ডাক্টর গার্ড আবদুল্লাহ আল মামুন। একপর্যায়ে সুমনের বৃদ্ধা মাকে ধাক্কা দিলে বাবা ও ছেলে এর প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গার্ড মামুন ধারালো ছুরি দিয়ে দুজনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। হাত কেটে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. ইকবাল হাসান জানান, আহত দুজনের হাতেই বেশ কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে।
একদিকে যাত্রীদের ওপর নির্মম হামলা, অন্যদিকে অপরাধীকে রক্ষা করার চেষ্টা দেখে ফুঁসে ওঠেন সাধারণ যাত্রীরা। স্টেশনে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ট্রেনের চালক, পরিচালকসহ সব স্টাফ ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের চরম গরমে ভোগান্তি পোহাতে হয়।
খবর পেয়ে কুষ্টিয়া সদর ইউএনও হারুন অর রশিদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার দ্রুত স্টেশনে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর ক্ষুব্ধ জনতা রেললাইন ছেড়ে দেন। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবীর হোসেন মাতুব্বর জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে ট্রেনটি গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে এখনো কোনো প্রথাগত মামলা বা লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য