কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হালিম নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে খয়েরপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মসজিদের ব্যাটারি চুরির ঘটনা এবং এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এর মধ্যেই শনিবার সকালে বিরোধটি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে খয়েরপুর গ্রামের বিভিন্ন স্থানে তাঁদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে হালিম গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
এ ঘটনায় আহত অন্তত ১০ জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল এবং স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
ঘটনার পর খয়েরপুর গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের আশঙ্কায় অনেক বাসিন্দা ঘর থেকে বের হতে সতর্কতা অবলম্বন করেন। গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, নিহত হালিমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তরিকুল নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নতুন করে সংঘর্ষের সম্ভাবনা ঠেকানো। গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘদিনের স্থানীয় বিরোধ অনেক সময় ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, জমি বা সামাজিক প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দ্রুত বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। খয়েরপুরের ঘটনাতেও দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের মুখোমুখি হওয়ার কথা স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তবে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, কারা এতে সরাসরি জড়িত এবং হালিমের মৃত্যুর পেছনে সুনির্দিষ্টভাবে কার ভূমিকা ছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের পাশাপাশি ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিও তদন্তের আওতায় নেওয়া হতে পারে।
হালিমের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে নতুন করে কোনো সংঘর্ষ বা হতাহতের ঘটনা না ঘটে। পুলিশও জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নজরদারি অব্যাহত থাকবে।









