,

বিয়েতে যাওয়ার পথে ট্রলারডুবি, দুই দিন পর ৩ মরদেহ উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ একই পরিবারের চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার দুই দিন পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। তবে পরিবারের আরেক সদস্য, বাবা হেলাল উদ্দিন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজীব, মেয়ে সামিয়া আক্তার এবং ছোট ছেলে সামিন। সামিয়ার বয়স ১৭ বছর, সজীবের ২৪ বছর এবং সামিনের বয়স পাঁচ বছর বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনেরা তাদের শনাক্ত করেন। পরে মরদেহগুলো অ্যাম্বুলেন্সে করে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রাম থেকে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার এলাকার উদ্দেশে ট্রলারে করে রওনা হন হেলাল উদ্দিনের পরিবারসহ স্বজনেরা। বিভিন্ন সূত্রে যাত্রীসংখ্যা ১৩ বা ১৪ জন বলা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য গরু, খাসি ও অন্যান্য সামগ্রীও ছিল।

ট্রলারটি সোনারগাঁয়ের সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানার কাছাকাছি মেঘনা নদীতে পৌঁছালে হঠাৎ ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। এতে নদীতে ঢেউ বেড়ে যায় এবং ট্রলারে পানি উঠতে শুরু করে। একপর্যায়ে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে ডুবে যায়। কাছাকাছি থাকা একটি ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।

দুর্ঘটনার পর রায়েসা বা রাশিদা বেগম নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। তাঁর পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে নাম ও বয়সে কিছুটা ভিন্নতা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে একই পরিবারের হেলাল উদ্দিন, সজীব, সামিয়া ও সামিন নিখোঁজ ছিলেন।

নিখোঁজদের সন্ধানে দুর্ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তল্লাশি শুরু করে। নদীতে স্রোত থাকায় উদ্ধারকাজে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। শুক্রবারও দীর্ঘ সময় ধরে ডুবুরি দল মেঘনায় অভিযান চালায়।

দুই দিন ধরে চলা তল্লাশির পর শনিবার সকালে নিখোঁজ তিন ভাই-বোনের মরদেহের সন্ধান মেলে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামিয়ার মরদেহ ভোরে নদীতে ভেসে ওঠে। পরে সজীব ও সামিনের মরদেহও উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানিয়েছেন, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শ্রীমদ্দি গ্রামে শোকের পরিবেশ নেমে এসেছে। পরিবারের স্বজনেরা এখনো অপেক্ষা করছেন হেলাল উদ্দিনের সন্ধানের জন্য। নদীতে নিখোঁজ ব্যক্তির খোঁজে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট দলগুলো।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।