কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাপায় ওমর ফারুক নামে চার বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষীপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাড়ির ভেতর থেকে দৌড়ে পাশের সড়কে চলে যাওয়ার পর চলন্ত অটোরিকশার নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয় শিশুটি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ওমর ফারুক মহালক্ষীপাড়া গ্রামের দক্ষিণ মোল্লা বাড়ির দিনমজুর মো. সাইফুল ইসলামের ছোট ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে বাড়ির ভেতরে ছিল শিশুটি। একপর্যায়ে সে দৌড়ে বাড়ির পাশের সড়কে চলে যায়। ঠিক তখন ওই সড়ক দিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যাচ্ছিল। শিশুটি সড়কে উঠে পড়লে অটোরিকশাটির নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। দ্রুত তাকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে আঘাতের মাত্রা ছিল গুরুতর। জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সাবিহা তাবাসসুম প্রমা বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা করে মৃত পাওয়া যায়। তার মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, সড়কে অটোরিকশার চাপায় এক শিশুর মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গ্রামাঞ্চলের অনেক সড়ক একই সঙ্গে স্থানীয় যানবাহন চলাচল ও মানুষের দৈনন্দিন চলাফেরার জন্য ব্যবহৃত হয়। বাড়িঘরের একেবারে কাছ দিয়ে সড়ক চলে গেলে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তারা হঠাৎ সড়কে উঠে পড়লে চালকের পক্ষে দ্রুতগতির যান নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এসব যান চলাচলের ক্ষেত্রে গতি নিয়ন্ত্রণ, পথচারীদের প্রতি সতর্কতা এবং আবাসিক এলাকার কাছাকাছি বাড়তি সাবধানতা দুর্ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শিশুদের একা সড়কের পাশে যেতে না দেওয়া এবং বাড়ির আশপাশে তাদের চলাফেরার দিকে নজর রাখাও জরুরি বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
তবে মহালক্ষীপাড়ার এই দুর্ঘটনার সময় অটোরিকশাটির গতি কত ছিল, চালক কীভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন কিংবা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে চালকের কোনো অসতর্কতা ছিল কি না—এসব বিষয়ে পুলিশ বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার দায় বা দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত বা আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হলে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
মাত্র চার বছর বয়সী ওমর ফারুকের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দিনমজুর বাবার ছোট সন্তানকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। একটি মুহূর্তের দুর্ঘটনা যে একটি পরিবারকে এমন অপূরণীয় ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে, ঘটনাটি আবারও তারই নির্মম উদাহরণ হয়ে থাকল।









