খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুন ২০২৬, ৫:২ পিএম

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার একটি রেস্টুরেন্টে নাশতা শেষে ভুলবশত প্রায় দুই বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে রেখে চলে যাওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শনিবার (২৭ জুন) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মোস্তফাপুর এলাকার জাইতুন রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সে নিজের নাম-পরিচয় জানাতে পারছে না, ফলে তার পরিবারকে খুঁজে বের করতে পুলিশ ও রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ একযোগে কাজ করছে।
রেস্টুরেন্ট সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে আটটার দিকে প্রায় ১৫ সদস্যের একটি বিদেশি পরিবার দুটি গাড়িতে করে জাইতুন রেস্টুরেন্টে আসে। সেখানে তারা একসঙ্গে নাশতা করেন এবং বেশ কিছু সময় গল্প-আড্ডায় কাটান। পরে তড়িঘড়ি করে রেস্টুরেন্ট ত্যাগ করার সময় অসাবধানতাবশত দুই বছর বয়সী শিশুটিকে ভেতরেই রেখে চলে যান।
কিছুক্ষণ পর রেস্টুরেন্টের কর্মীরা শিশুটিকে একা দেখতে পান। আশপাশে পরিবারের কাউকে খুঁজে না পেয়ে তারা বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায়, শিশুটি ওই বিদেশি পরিবারের সঙ্গেই এসেছিল এবং তাদের চলে যাওয়ার পরই রেস্টুরেন্টে থেকে যায়।
জাইতুন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী লুৎফুর রহমান রিপন জানান, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই সদর দক্ষিণ থানায় অবহিত করা হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি নিরাপদে রেস্টুরেন্টের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তার বয়স আনুমানিক দুই বছর। সে কোনো কথা বলতে পারে না এবং নিজের পরিচয়ও জানাতে সক্ষম নয়। পরিবারটির সন্ধান পেতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধারের ব্যবস্থা নেয়। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ, মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সূত্রের মাধ্যমে পরিবারটির অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
পুলিশের ধারণা, এটি পরিকল্পিতভাবে শিশুকে ফেলে যাওয়ার ঘটনা নয়; বরং পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে ভ্রমণ ও ব্যস্ততার মধ্যে থাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে শিশুটি রেস্টুরেন্টে রয়ে গেছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে শিশু দ্রুত মানসিকভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়তে পারে। তাই পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে নিরাপদ পরিবেশে রাখা এবং পরিবারের সন্ধান পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আশা করছেন, দ্রুতই শিশুটির পরিবারের সন্ধান মিলবে এবং তাকে নিরাপদে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
মন্তব্য