,

দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৩

দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৪৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজন করে মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে তাঁদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত হয়েছিল কি না, তা প্রতিবেদনে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ১৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ১০৪ জন। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৪৩ জন।

প্রতিবেদনে সংক্রমণের চিত্রও উঠে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ২৬৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে সন্দেহভাজন সংক্রমণের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৩ জনে।

একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৮১ জন। এ নিয়ে দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ১৯৭ জনে। সন্দেহভাজন সংক্রমণ ও পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া আক্রান্তের সংখ্যা আলাদাভাবে হিসাব করা হয়। তাই এই দুই পরিসংখ্যানকে একই শ্রেণির সংক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।

হাসপাতালে ভর্তি ও সুস্থতার চিত্র

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম সন্দেহে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৯ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ৭০৫ জন।

হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত সংক্রমণে মৃত্যুর তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় রোগ শনাক্তকরণ, পরীক্ষার সুযোগ এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার বিষয়গুলো জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সব ঘটনাকে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা যায় না।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার মাধ্যমে রোগটি প্রকাশ পায়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে অপুষ্টি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা কিংবা সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রচলিত পরামর্শ অনুযায়ী, হামের লক্ষণ দেখা দিলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া কমাতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে যথাসম্ভব আলাদা রাখা এবং টিকাদানের বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশনা অনুসরণ করাও জরুরি।

দেশে গত কয়েক মাসের সংক্রমণ, মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির পরিসংখ্যান পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরছে। তবে সংক্রমণের বর্তমান প্রবণতা ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর বিষয়ে আরও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ধারাবাহিক তথ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।