কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে এক পর্যটককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে সৈকতের বালুচরে এ ঘটনা ঘটে। এতে মো. এনাম (২৮) নামে এক পর্যটক গুরুতর আহত হন। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাপাছড়ি গ্রামের আকছার আহমদের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পর্যটক পুলিশের পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর জানান, ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পিকনিকে আসা একদল পর্যটক সমুদ্রসৈকতে তিনটি টিউব ভাড়া নেন। সমুদ্রে গোসল করতে নামার আগে তারা নিজেদের জুতা টিউব পরিচালনাকারীদের কাছে রেখে যান। গোসল শেষে ফিরে এসে তারা দেখতে পান, রাখা তিন জোড়া জুতার মধ্যে এক জোড়া জুতা অনুপস্থিত।
এ বিষয়টি নিয়ে টিউব পরিচালনাকারীদের সঙ্গে পর্যটকদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, পরে কয়েকজন ঘোড়াওয়ালা, ফটোগ্রাফার এবং টিউব পরিচালনাকারীরা একত্রিত হয়ে পর্যটকদের ওপর হামলা চালান। হামলার সময় মো. এনামকে বালুচরে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জেলা প্রশাসনের বিচকর্মী ও পর্যটক পুলিশ সদস্যরা। তারা আহত পর্যটক এনামকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। প্রাথমিকভাবে তাকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পর্যটক পুলিশ জানায়, হামলার ঘটনায় জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন মো. রুবেল (১৮) এবং মো. শাকিল (১৮), যারা ঘোড়াওয়ালা হিসেবে সৈকতে কাজ করতেন। তাদের কক্সবাজার সদর মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাটির সারসংক্ষেপ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনাস্থল | কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, সুগন্ধা পয়েন্ট |
| সময় | শনিবার, ১৮ এপ্রিল, দুপুর |
| আহত ব্যক্তি | মো. এনাম (২৮), চট্টগ্রাম বাঁশখালী |
| ঘটনার কারণ | জুতা হারানোকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি |
| আহতের অবস্থা | গুরুতর আহত |
| আটক ব্যক্তিরা | মো. রুবেল (১৮), মো. শাকিল (১৮) |
| আটক স্থান | কক্সবাজার সদর মডেল থানা |
| পদক্ষেপ | উদ্ধার, চিকিৎসা ও গ্রেপ্তার অভিযান চলমান |
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় এখানে প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের সমাগম ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যটক পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করে থাকে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
