ভারত সরকার সামুদ্রিক বাণিজ্য খাতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে একটি বৃহৎ পুনর্বীমা সহায়ক তহবিল গঠনের অনুমোদন দিয়েছে। এই সমন্বিত তহবিলের আর্থিক নিশ্চয়তা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১২৯.৮ বিলিয়ন রুপি, যা আনুমানিক ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি, নিষেধাজ্ঞা এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে যখন বৈশ্বিক বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো সামুদ্রিক ঝুঁকির সুরক্ষা কমিয়ে দিচ্ছে, তখন দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভারতের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, এই সমন্বিত নৌ-বীমা তহবিলটি প্রাথমিকভাবে ১০ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। প্রয়োজনে এর মেয়াদ আরও পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। সরকারের মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
সরকারি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক বড় বৈশ্বিক পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে তাদের ঝুঁকি গ্রহণের সীমা কমিয়ে দিয়েছে অথবা কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে সরে এসেছে। এর ফলে সামুদ্রিক বাণিজ্যে বীমা সুরক্ষার ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং পরিবহন খাতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং কিছু দেশের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বৈশ্বিক বীমা বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে জাহাজ চলাচল, পণ্য পরিবহন এবং সামুদ্রিক যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত ঝুঁকির বীমা ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কভারেজ সীমিত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকটি বীমা কোম্পানি তাদের ঝুঁকি গ্রহণ ক্ষমতা সীমিত করেছে বা বীমা ফি বাড়িয়েছে। ফলে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে।
নতুন এই সমন্বিত তহবিলের মাধ্যমে জাহাজ, পণ্য পরিবহন, সামুদ্রিক যন্ত্রপাতি এবং যুদ্ধ-সংক্রান্ত ঝুঁকি—সব ধরনের সামুদ্রিক ঝুঁকি আচ্ছাদিত করা হবে। অংশগ্রহণকারী বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ৯.৫ বিলিয়ন রুপি ঝুঁকি গ্রহণ ক্ষমতা ব্যবহার করবে বলে জানানো হয়েছে।
নিচে এই উদ্যোগের মূল দিকগুলো তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মোট আর্থিক নিশ্চয়তা | প্রায় ১২৯.৮ বিলিয়ন রুপি (১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) |
| কার্যকাল | ১০ বছর, প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১৫ বছর |
| কাভারেজ ক্ষেত্র | জাহাজ, পণ্য পরিবহন, যন্ত্রপাতি, যুদ্ধ-সংক্রান্ত ঝুঁকি |
| ঝুঁকি গ্রহণ ক্ষমতা | প্রায় ৯.৫ বিলিয়ন রুপি |
| প্রধান উদ্দেশ্য | বাণিজ্য সচল রাখা ও ঝুঁকি সুরক্ষা নিশ্চিত করা |
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করবে এবং বৈশ্বিক বাজারে বীমা সংকটের প্রভাব কমাতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি দেশীয় বীমা খাতকে আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকার আশা করছে, এই তহবিল কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও ভারতের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকবে এবং ব্যবসায়িক আস্থা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
