আড়াইহাজারে অবৈধ গ্যাস সংযোগে ব্যাপক অভিযান পরিচালিত হলো

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বড় ধরনের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে মোট ১৮০টি বাড়ির অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং ২১০টি আবাসিক চুলার সংযোগ কেটে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময়ব্যাপী পরিচালিত এই অভিযানে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের দড়ি সত্যভান্দি, তিনগাঁও এবং ব্রাহ্মন্দী গোবিন্দী এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ খান।

অভিযান চলাকালে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনবিহীনভাবে গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছিল। এসব সংযোগ মূলত পাইপলাইনে অবৈধভাবে ট্যাপিং করে এবং অননুমোদিত লাইন স্থাপনের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছিল এবং একই সঙ্গে জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

অভিযানের বিস্তারিত চিত্র

বিষয়তথ্য
এলাকাআড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ
তারিখ১৯ এপ্রিল
সময়কালসকাল ১১টা – বিকেল ৪:৪৫
বিচ্ছিন্ন সংযোগ১৮০টি বাড়ি
কাটা চুলা সংযোগ২১০টি
ইউনিয়নদুপ্তারা
অভিযান নেতৃত্বনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ খান

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ খান বলেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগ শুধু সরকারি রাজস্ব ক্ষতির কারণ নয়, বরং এটি সরাসরি জননিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি বড় ঝুঁকি। গ্যাস লিকেজ হলে যেকোনো সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে, যা প্রাণহানি ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

তিনি আরও জানান, এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে। পাশাপাশি যারা অবৈধ সংযোগ স্থাপন বা এতে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মামলা ও জরিমানাও করা হবে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু চক্র পাইপলাইনের মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ স্থাপন করে গ্যাস ব্যবহার করে আসছিল। এসব অবৈধ সংযোগ অনেক সময় বৈধ গ্রাহকদের জন্যও সমস্যা সৃষ্টি করে, কারণ এতে গ্যাসের চাপ কমে যায় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্য নষ্ট হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশে অবৈধ গ্যাস সংযোগ একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল সমস্যা। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের অবৈধ সংযোগ বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। তারা বলেন, শুধু অভিযান নয়, প্রযুক্তিগত নজরদারি, নিয়মিত মনিটরিং এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

অভিযানের পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপকে অনেকে স্বাগত জানিয়েছেন, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ব্যবহৃত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কিছু পরিবার সাময়িক ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন।

তবে প্রশাসন পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। লক্ষ্য হলো গ্যাস ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা এবং সর্বোপরি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা।