ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে রাজধানীর গুলশান এলাকায় অন্যের বাড়ি ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টা এবং বিশ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সন্ত্রাসী চক্রের মূল হোতা হানিফ হাওলাদার ওরফে ভুয়া আব্দুল আজিজ খানের সহযোগী মো. ইউসুফ (৬১)–কে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। শুনানির সময় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. আরমান আলী ইউসুফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তিনি আদালতে বলেন, গ্রেপ্তার ইউসুফ প্রতারক ও ভূমিদস্যু চক্রের সক্রিয় সদস্য। তিনি ভুয়া আব্দুল আজিজ খানের সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে জাল দলিল ও ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে গুলশান এলাকার বিভিন্ন বাড়ি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। পলাতক এক নম্বর আসামি ইসমাইলসহ অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে ইউসুফকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানিতে বলেন, ভুয়া আব্দুল আজিজ নিজেই আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং তিনি যে প্রকৃত আজিজ নন তা স্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই চক্র গুলশানের বড় বড় বাড়িকে লক্ষ্য করে চাঁদাবাজি ও দখলচেষ্টা চালাত। ইউসুফ এই চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ছিলেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত ইউসুফের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ মার্চ গুলশান–১ এলাকার একটি বাড়িতে ইসমাইল ও ইউসুফের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি প্রবেশ করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় এবং বাউন্ডারি দেয়াল ভাঙচুর করে। তারা বাড়ির ম্যানেজারের কাছে বিশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে দায়িত্বরত আনসার সদস্য ও শ্রমিকদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় বাড়ির ভেতরের কিছু গাছও কেটে ফেলা হয়।
পরবর্তীতে গত মাসের ৩ তারিখ বাড়িটির ম্যানেজার আবু শিকদার আবু গুলশান থানায় মামলা করেন। তদন্তে জানা যায়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িসহ আশপাশের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
ভুয়া আব্দুল আজিজ খান নামে পরিচিত মূল আসামির প্রকৃত নাম হানিফ হাওলাদার। তিনি বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত আব্দুল গফুর হাওলাদার এবং মাতার নাম মৃত হামিদা বেগম। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ভুয়া পরিচয়পত্র ও জাল দলিল ব্যবহার করে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেন এবং গত ১১ এপ্রিল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
নিচে মামলার প্রধান ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ১ মার্চ | গুলশানের বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও চাঁদা দাবি |
| ৩ মার্চ | ম্যানেজারের মামলা দায়ের |
| তদন্তকাল | জাল দলিল ও ভুয়া পরিচয়ের তথ্য উদঘাটন |
| ১১ এপ্রিল | মূল আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি |
| ১৯ এপ্রিল | ইউসুফের দুই দিনের রিমান্ড |
একটি সংবাদ সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে, এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পর্যায়ে একটি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পাঁচ দিনের মধ্যে অভিযুক্ত চক্রটি বাড়ি ত্যাগ করে এবং পরে প্রকৃত মালিকপক্ষ সেখানে অবস্থান নেয়।
