জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

নান্দাইলে ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দল নেতার বিরুদ্ধে

ময়মনসিংহের নান্দাইলে সরকারি বিভিন্ন সেবা ও সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষি দপ্তরের কৃষক কার্ড করে দেওয়ার নাম করে গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের কয়েকজন বাসিন্দার কাছ থেকে এই অর্থ আদায় করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে মো. আবুল কালাম (৫৫) নামের এক ব্যক্তির নাম। তিনি নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের সৈয়দগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এবং ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। ক্ষমতার প্রভাব ও সরকারি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নগদ টাকা সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উঠে এসেছে।

সম্প্রতি নান্দাইল উপজেলার কালেঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মো. সাখাওয়াত হোসেন (২৭) এই বিষয়ে প্রতিকার ও বিচার চেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে সরকারি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আবুল কালাম তাঁর কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নেন। একইভাবে সাখাওয়াতের চাচি মজিদা খাতুনের কাছ থেকে নেওয়া হয় ৫০০ টাকা। এছাড়া পার্শ্ববর্তী শিমুলাটিয়া গ্রামের মো. লতিফ মিয়ার কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে নেওয়া হয় ৫ হাজার টাকা। মোট ৭ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট বিবরণ রয়েছে এই অভিযোগে।

টাকা নেওয়ার পর দুই মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও কোনো কার্ড পাননি ভুক্তভোগীরা। বারবার তাগাদা দেওয়া হলে নানা অজুহাতে সময় পার করতে থাকেন অভিযুক্ত কালাম। পরে কার্ড দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পাওনা টাকা ফেরত চাইলে উল্টো নানা ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

ভুক্তভোগী সাখাওয়াত হোসেন আক্ষেপ করে জানান, কার্ডের বিষয়ে কথা বলতে গেলেই নানা অসংলগ্ন কথা বলা হয়। এখন টাকা ফেরত চাইলে রাজনৈতিক ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কার্ড তো পাই-ইনি, উল্টো নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা হারিয়ে দিশেহারা হতে হচ্ছে।

আরেক ভুক্তভোগী মো. লতিফ মিয়া জানান, তিনি দিনে এনে দিনে খাওয়া একজন মানুষ। সংসারের একটু খরচের সুবিধার জন্য ফ্যামিলি কার্ড অত্যন্ত জরুরি ছিল। সেই কার্ডের আশাতেই কালামের হাতে ৫ হাজার টাকা তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন কার্ড বা টাকা—কোনোটাই ফেরত পাচ্ছেন না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. আবুল কালাম তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব তথ্য অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের কোনো টাকা তিনি নেননি। একটি বিশেষ গোষ্ঠী তাঁকে সামাজিকভাবে খাটো করা এবং রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য মিথ্যে ও বানানো গল্প ছড়াচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলেও তিনি জানান।

ঘটনার বিষয়ে জানতে নান্দাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুল ইসলাম আকন্দের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈমা সুলতানা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, সরকারি কোনো কৃষক কার্ড করতে এক টাকাও খরচ হয় না। এটি কৃষকদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যদি টাকা নিয়ে থাকে, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হবে।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত জানান, সরকারি যে কোনো সেবায় অনিয়ম ও অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর