টাঙ্গাইলের মধুপুরে স্থানীয় একজন ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে চার হাজার পিসের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় মধুপুর পৌর শহরের টেকিয়াপাড়া এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর সন্দেহ ও তীব্র প্রতিবাদের মুখে অভিযুক্ত মাদক কারবারি তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর অবস্থানের মাঝেই এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রকাশ অত্যন্ত উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম হাফিজ উদ্দিন। তিনি মধুপুর পৌর এলাকার বোয়ালী গ্রামের মৃত শুক্কুর আলীর ছেলে। পৌর শহরের টেকিয়াপাড়া এলাকায় সাবেক এক পৌর কাউন্সিলরের ওয়ারিশি সূত্রে প্রাপ্ত জমির পাশে বাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বসবাস করে আসছেন। এলাকায় ব্যবসায়িক পরিচয়ের আড়ালে তার বিভিন্ন সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নিয়ে আগে থেকেই স্থানীয়দের মনে গুঞ্জন ছিল। তবে তার এই আড়ালে যে এমন একটি বড় মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল, তা শুরুতে কেউ আঁচ করতে পারেননি।
ঘটনার দিন বিকেলে স্থানীয় কয়েকজন সাহসী বাসিন্দা হাফিজের বাড়িতে যান। তার ঘরে অবৈধ মাদকের বড় চালান মজুদ রয়েছে এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তারা তাকে মুখোমুখি চ্যালেঞ্জ করেন। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি বুঝতে পেরে এবং স্থানীয় জনরোষ এড়াতে হাফিজ উদ্দিন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন। পরে স্থানীয়রা বিন্দুমাত্র দেরি না করে বিষয়টি দ্রুত থানায় অবহিত করেন এবং পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।
খবর পেয়ে মধুপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত টেকিয়াপাড়ার ওই বাড়িতে এসে তল্লাশি শুরু করে। তল্লাশিকালে একটি গোপন কক্ষের ভেতর থেকে ইয়াবার বড় এই চালানটি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনতা এবং মধুপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলামের উপস্থিতিতে জব্দকৃত ইয়াবাগুলো গণনা করা হয়। গণনায় চার হাজার পিসের কিছু বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য বেশ চড়া।
মধুপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পলাতক বাড়ির মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বর্তমানে পলাতক হাফিজ উদ্দিনকে গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকার যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এ ধরনের মাদকের আস্তানার বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।









