জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর দাওয়াত খেয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, রাউজানে নারীদের ওপর হামলা

চট্টগ্রামের রাউজানে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত পারিবারিক মাহফিলে দাওয়াত খেয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল যুবকের বিরুদ্ধে। দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে ক্ষুব্ধ দুর্বৃত্তরা অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরা নারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়, শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে এবং প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

রোববার বিকেলে রাউজান উপজেলার জানিপাথরের পাঁচপুকুরিয়া এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও সহিংস ঘটনাটি ঘটে। হামলায় চার নারী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা হলেন—মফিজুর রহমানের স্ত্রী সাদিয়া আকতার (২৫), তাঁর বোন মরিয়ম বেগম (২০), ফুফাতো বোন মনি আকতার (২৬) এবং চাচাতো বোন মাহি আকতার (১৯)। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মফিজুর রহমান বাদী হয়ে মো. রুবেলসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২০-২২ জনকে আসামি করে রাউজান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মফিজুর রহমান নিজ বাসভবনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মাহফিল ও কয়েক শ অতিথির দুপুরের খাবারের আয়োজন করেন। মাহফিলে পার্শ্ববর্তী এলাকার মো. রুবেল (২৭), নুরু ছালাম (৩৫), মো. ইকবাল (৪০), চাপ্পিয়ে (২৫) ও মো. ফারুকসহ (৩০) অচেনা বেশ কয়েকজন যুবক আমন্ত্রিত মেহমান হিসেবে উপস্থিত হন। পেট পুরে খাওয়াদাওয়া শেষ করার পর দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে অভিযুক্ত রুবেল ও তাঁর সঙ্গীরা হঠাৎ আয়োজক মফিজুর রহমানের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বসেন। মফিজুর চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয় এবং মারধর করার চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য মেহমানরা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা সাময়িকভাবে ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।

এর কিছু সময় পর অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে মফিজুরের বাড়ির অদূরে অবস্থান নেয়। অনুষ্ঠান শেষে মফিজুরের পরিবারের নারী সদস্যরা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন এলাকার স্থায়ী ঠিকানায় ফেরার জন্য বের হলে দুর্বৃত্তরা মাঝরাস্তায় গাড়িটি ঘিরে ফেলে। সেখানে পুনরায় চাঁদা দাবি করে তারা অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্ত রুবেল অটোরিকশায় থাকা মাহি আকতারকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন এবং গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করেন। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে মরিয়ম বেগমকে কাঠের বাটাম দিয়ে সজোরে আঘাত করা হয়, এতে তাঁর বাঁ হাতের কনুইয়ের হাড় ভেঙে যায়। একই সঙ্গে হামলাকারীরা ভুক্তভোগী নারীদের পরিহিত কানের দুল ও আংটিসহ প্রায় ১ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে স্থান ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় চার নারীকে উদ্ধার করে দ্রুত রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান।

ঘটনার বিষয়ে মূল অভিযুক্ত মো. রুবেল চাঁদা দাবি ও হামলার কথা অস্বীকার করে জানান, তিনি দুপুরে বাসায় গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করেছেন সত্য, তবে পরবর্তী ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। ঘটনার সময় তিনি নিজের বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন দাবি করে পুরো অভিযোগকে মিথ্যা বলে আখ্যা দেন।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দাওয়াত শেষে চাঁদা দাবি ও মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tags :

মোঃ সাকিব হোসেন | উপ-সম্পাদক । জিলাইভ বাংলা

সর্বশেষ খবর