জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

সৌদি আরবে বেপরোয়া রেসিং কারের চাপায় প্রবাসীর মৃত্যু

সৌদি আরবের মাটিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীর মিয়া (২১) নামে এক তরুণ বাংলাদেশি প্রবাসীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। দ্রুতগামী একটি রেসিং কারের নিচে চাপা পড়ে দুর্ঘটনাস্থলেই প্রদীপের মতো নিভে যায় তাঁর তাজা প্রাণ। নিহত জাহাঙ্গীর ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার যশরা ইউনিয়নের পালইকান্দা গ্রামের কুয়েত প্রবাসী শাহজাহান মিয়ার সন্তান। তাঁর অকাল মৃত্যুর সংবাদ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাতেই পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে তীব্র শোকের ছায়া, স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

নিহত প্রবাসীর স্বজন ও ফুফা জায়েদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মর্মান্তিক বিবরণ দেন। তিনি জানান, সৌদি আরবের স্থানীয় সময় শনিবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে জেদ্দা শহরে সড়ক অতিক্রম করার সময় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবারের অভাব অনটন দূর করতে ও জীবিকার তাগিদে মাত্র এক বছর আগে দূর সৌদিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন ২১ বছর বয়সী জাহাঙ্গীর। তিনি জেদ্দা শহরের একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন এবং সেখানেই সহকর্মীদের সঙ্গে থাকতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার কাজের ডিউটি শেষ করে নিজের ও বাসার প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সারতে রুম থেকে বের হয়েছিলেন জাহাঙ্গীর। কিন্তু কেনাকাটা শেষে আর আবাসে ফেরা হয়নি তাঁর। পায়ে হেঁটে রাস্তা পার হওয়ার সময় হঠাৎ এসে পড়ে গতিদানব এক রেসিং কার। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দ্রুতগতির গাড়িটি তাঁকে সজোরে পিষে দিয়ে চলে যায়। প্রচণ্ড আঘাতে রক্তে ভেসে যায় চারপাশ এবং ঘটনাস্থলেই জাহাঙ্গীরের প্রাণহানি ঘটে। খবর পেয়ে সৌদির স্থানীয় থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল তৈরি করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালের হিমঘরে পাঠায়।

ছোটবেলা থেকেই জাহাঙ্গীর অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী ছিলেন। তাঁর বাবা শাহজাহান মিয়াও পরিবারের ভাগ্য বদলাতে বহু বছর ধরে কুয়েতে প্রবাসী হিসেবে কঠোর পরিশ্রম করছেন। বাবার কাঁধের চাপ কিছুটা হালকা করতে এবং পরিবারের আর্থিক ভিত্তি শক্ত করতে বছরখানেক আগে গফরগাঁও থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যান জাহাঙ্গীর। তবে সব প্রত্যাশা আর সাজানো স্বপ্ন নিমেষেই ধূলিসাৎ করে দিল সৌদি রাজপথের এই বেপরোয়া রেসিং কার।

ছেলের অকালমৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে গফরগাঁওয়ের পালইকান্দা গ্রামের বাড়িতে কান্না থামছে না। সন্তানকে হারিয়ে মা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। প্রিয়জনকে হারিয়ে স্বজনেরাও বাকরুদ্ধ। নিহতের স্বজনেরা বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যেন আইনি আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করে প্রবাসীর মরদেহ স্বদেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সৌদিতে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থানীয় বাংলাদেশিদের সহযোগিতায় লাশ নিজ গ্রামে এনে দাফনের আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

Tags :

মোঃ সাকিব হোসেন | উপ-সম্পাদক । জিলাইভ বাংলা

সর্বশেষ খবর