জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

অর্থ উদ্ধার জোরদারে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে বিশেষায়িত ‘ওয়ার-রুম’ চালু

বিনিয়োগ করা অর্থ উদ্ধার ও খেলাপী ঋণ আদায় কার্যক্রমকে দ্রুত, জোরদার ও অধিক ফলপ্রসূ করতে এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’। পাওনা অর্থ সময়মতো আদায় এবং কেন্দ্রীয় তদারকি জোরদার করার লক্ষ্যে ব্যাংকটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে একটি বিশেষায়িত ‘কালেকশন অ্যান্ড রিকভারি ওয়ার-রুম’ (Collection & Recovery War-Room)।

গত ১৬ আগস্ট ২০২৬, রবিবার রাজধানীর কর্পোরেট প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষায়িত ‘ওয়ার-রুম’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে সমন্বিত ব্যাংকের মূল পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ব্যাংকের রিকভারি ও লিগ্যাল ডিভিশনের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে বর্তমানে ব্যাংকের বিনিয়োগের সার্বিক অবস্থা, বৃহৎ ঋণগ্রহীতাদের থেকে পাওনা আদায়ের কৌশল, দৈনিক ও মাসিক আদায় লক্ষ্যমাত্রা, আইনি ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সম্পন্ন হয়।

আমানতকারীদের জমাকৃত অর্থ সুরক্ষিত রাখা এবং ব্যাংকটির ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে খেলাপি ও মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগ আদায়কে ব্যাংকের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, দেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করতে সাবেক এক্সিম ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি—এই পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে তাদের সমস্ত দায় ও সম্পদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’। প্রতিষ্ঠানটির মূলধন কাঠামোকে শক্তিশালী করতে ৩৫,০০০ কোটি টাকার মোট তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে সরকার প্রদান করেছে ২০,০০০ কোটি টাকা এবং সাধারণ আমানতকারীদের অংশ থেকে এসেছে ১৫,০০০ কোটি টাকা।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আমানতকারীদের আমানত ফেরত দেওয়ার নিশ্চয়তা বাড়াতে খেলাপী ঋণ উদ্ধারই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নবগঠিত ‘ওয়ার-রুম’-এর মাধ্যমে ব্যাংকটি কেন্দ্রীয়ভাবে বিনিয়োগ আদায় প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে, বৃহৎ ঋণগ্রহীতাদের নিয়মিত তদারকিতে রাখবে এবং বিলম্বিত পাওনার ক্ষেত্রে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ নিশ্চিত করবে।

উদ্বোধনী সভায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, “বিনিয়োগ আদায়কে সাধারণ দৈনন্দিন ব্যাংকিং কাজের অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আমানতকারীর অর্থ সুরক্ষা ও ব্যাংকের পুনর্গঠনে এটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে গণ্য করতে হবে।” তিনি ব্যাংকে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা ও দায়িত্বশীলতার সাথে কার্যসম্পাদনে নির্দেশনা দেন।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং নবগঠিত ‘ওয়ার-রুম’ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:

সূচক ও বিবরণতথ্য ও পরিসংখ্যান
প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ নামসম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি
মালিকানার ধরনরাষ্ট্রায়ত্ত ইসলামী ব্যাংক
নতুন উদ্যোগের নামকালেকশন অ্যান্ড রিকভারি ওয়ার-রুম
উদ্বোধনের তারিখ১৬ আগস্ট ২০২৬, রবিবার
উদ্বোধনকারী কর্মকর্তাআবেদুর রহমান সিকদার (ব্যবস্থাপনা পরিচালক)
একীভূত ব্যাংক ১এক্সিম ব্যাংক পিএলসি
একীভূত ব্যাংক ২সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি
একীভূত ব্যাংক ৩ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি
একীভূত ব্যাংক ৪গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি
একীভূত ব্যাংক ৫ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি
সর্বমোট মূলধন৩৫,০০০ কোটি টাকা
সরকারি তহবিলের পরিমাণ২০,০০০ কোটি টাকা
আমানতকারীদের সংগৃহীত অর্থ১৫,০০০ কোটি টাকা
প্রধান কাজের উদ্দেশ্যখেলাপী অর্থ উদ্ধার, তারল্য বৃদ্ধি ও আমানত রক্ষা

ব্যবস্থাপনা পরিচালক দৃঢ় আশাবাদ প্রকাশ করেন যে, নিবিড় তদারকি সেলের জোরালো ভূমিকার কারণে খেলাপী ঋণ আদায় প্রক্রিয়ায় অতি দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাবে এবং ব্যাংকের গ্রাহক ও অন্যান্য অংশীদারদের আস্থা পুনর্প্রতিষ্ঠিত হবে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর