ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর আগেই, ইরান ঘোষণা করেছে যে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা করছে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, তেহরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। এএফপি সূত্রে তেহরান থেকে এই খবর জানানো হয়েছে।
আগামী শুক্রবার ইস্তাম্বুলে ইরান, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হতে যাচ্ছে। তবে ইরান অভিযোগ করছে যে, ইউরোপীয় দেশগুলো ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
এটি হচ্ছে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর প্রথম পারমাণবিক আলোচনা। এই যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ফক্স নিউজের “ব্রেট বেয়ারকে” দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে কারণ হামলার ফলে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তবে এটি সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করা আমাদের জন্য অসম্ভব। এটি আমাদের বিজ্ঞানীদের অর্জন এবং ভবিষ্যতে কোনো পারমাণবিক চুক্তিতে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার থাকতে হবে।”
এদিকে, ইরানের এই বক্তব্যের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম “ট্রুথ সোশ্যাল”-এ ইরানে হামলার পুনরাবৃত্তির হুমকি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “যদি প্রয়োজন হয়, ওয়াশিংটন আবারও হামলা চালাবে।”
২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে ইরান ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানি একত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প একতরফাভাবে চুক্তি থেকে বের হয়ে গেলে এবং পুনরায় ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে এটি ভেঙে যায়।
চুক্তির ভবিষ্যত নিয়ে শুক্রবার ইস্তাম্বুলে আলোচনার আগে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই ইউরোপীয় দেশগুলোকে চুক্তি বাস্তবায়নে অবহেলার জন্য দায়ী করেছেন।
ইরান মঙ্গলবার চীন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করবে, যেখানে পারমাণবিক সমস্যা ও নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক আলোচনা হবে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেইজিং এই আলোচনায় একটি গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে চায়, যাতে সব পক্ষের উদ্বেগ বিবেচনায় এনে একটি সমাধানে পৌঁছানো যায়।
ইউরোপীয় তিন দেশ, জার্মানি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য (ই৩) ইরানের পারমাণবিক প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের হুমকি দিয়েছে। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মার্টিন গিজ জানিয়েছেন, ইস্তাম্বুলে আলোচনা বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে হবে, এবং যদি আগস্টের শেষের মধ্যে কোনো সমাধান না আসে, তবে “স্ন্যাপব্যাক” নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার একটি বিকল্প হিসেবে থাকবেই।
২০১৫ সালের চুক্তির আওতায়, যদি কোনো পক্ষ চুক্তি লঙ্ঘন করে, তবে জাতিসংঘের মাধ্যমে “স্ন্যাপব্যাক” পদ্ধতিতে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা সম্ভব।
