যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে বিচার বিভাগের তদন্তে যেসব ‘বিশ্বাসযোগ্য’ নথি রয়েছে, সেগুলো প্রকাশ করা উচিত। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।
এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন ট্রাম্পের রক্ষণশীল সমর্থকদের ভেতরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। সমর্থকদের একাংশের অভিযোগ, এপস্টিন কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ধনী ও প্রভাবশালীদের রক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসন তথ্য গোপন করছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘এ ব্যাপারে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির ওপর আমার আস্থা রয়েছে। তিনি যা বিশ্বাসযোগ্য মনে করবেন, তা প্রকাশ করবেন।’ তবে তিনি এটাও দাবি করেন, এসব নথির অধিকাংশই তৈরি হয়েছিল ডেমোক্র্যাট প্রশাসনের সময়।
এপস্টিন ইস্যুতে ট্রাম্পের এ বক্তব্য তার আগের অবস্থানের তুলনায় কিছুটা নমনীয়। আগে তিনি বলেছিলেন, জনগণের এই আগ্রহ তিনি বুঝতে পারছেন না, এবং এ নিয়ে আলোচনা ‘বিরক্তিকর’।
এদিকে এফবিআই ও বিচার বিভাগ সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা কোনো ‘ক্লায়েন্ট তালিকা’ বা ব্ল্যাকমেইলের প্রমাণ খুঁজে পায়নি এবং এপস্টিন আত্মহত্যা করেছে বলেই তাদের বিশ্বাস। এতে অনেক ডানপন্থী সমর্থক ক্ষুব্ধ হয়েছেন, কারণ তারা মনে করেন, প্রশাসন আসল সত্য চাপা দিচ্ছে।
এপস্টিন-সংক্রান্ত স্বচ্ছতার দাবি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও মতপার্থক্য দেখা গেছে। জানা গেছে, পাম বন্ডি ও এফবিআই-এর ডেপুটি ডিরেক্টর ড্যান বংগিনোর মধ্যে এ নিয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছে, এমনকি বংগিনো পদত্যাগের কথা ভাবছেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল থেকেও সমালোচনা এসেছে। ফক্স নিউজ উপস্থাপক ও তাঁর পুত্রবধূ লারা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে ‘আরও স্বচ্ছতা’ দাবি করেছেন। কংগ্রেসের স্পিকার ও ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্র মাইক জনসনও একই দাবিতে বলেছেন, ‘সবকিছু প্রকাশ করা হোক, জনগণ বিচার করুক।’
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের এক কারাগারে আত্মহত্যা করেন জেফ্রি এপস্টিন। তাঁর বিরুদ্ধে নাবালিকাদের যৌন পাচারের অভিযোগ ছিল।
নির্বাচনের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, এপস্টিন-সম্পর্কিত নথি প্রকাশে তিনি কোনো আপত্তি দেখেন না। তবে নিজের নাম কোনো নথিতে আছে কি না জানতে চাইলে তিনি জবাব দেন, ‘না’, এবং জানান, পাম বন্ডি তাঁকে বিষয়টি ‘সংক্ষিপ্তভাবে’ জানিয়েছিলেন।
