গাজায় ত্রাণ সংগ্রহের চেষ্টাকালে প্রাণঘাতী সহিংসতায় গত ছয় সপ্তাহে প্রায় ৮০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সর্বশেষ শুক্রবার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফায় ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে অপেক্ষারত অবস্থায় আরও ১০ জন নিহত হন।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় পরিচালিত নতুন ত্রাণ ব্যবস্থার আওতায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটছে বলে জাতিসংঘ দাবি করেছে। এই ব্যবস্থার আওতায় গঠিত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) কার্যত জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থাকে ছিটকে দিয়েছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হতাহতের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে তারা সৈন্যদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে।
জিএইচএফ-এর মাধ্যমে ইসরাইলি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমকে জাতিসংঘ ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং মানবিক সহায়তায় নিরপেক্ষতা নীতির লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।
এদিকে গাজার নাগরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, রাফার একটি ত্রাণ বিতরণস্থানে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে শুক্রবার ১০ জন নিহত হন। সংস্থাটি আরও জানায়, এমন ঘটনা আগেও বহুবার ঘটেছে।
এই সহিংসতার খবর সামনে আসে এমন সময়, যখন কাতারে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা চলছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি সম্ভাব্য চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী এবং পরবর্তীতে স্থায়ী শান্তিচুক্তির আলোচনায় যেতে প্রস্তুত।
হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—গাজায় অবাধভাবে মানবিক সাহায্য প্রবেশ নিশ্চিত করা। কারণ অঞ্চলটির দুই মিলিয়নেরও বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকট ও স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
