নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে বড় চমক দেখিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জোহরান মামদানি। ৩৩ বছর বয়সী এই স্বঘোষিত সমাজতান্ত্রিক বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক নির্বাচনে সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে হারিয়ে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।
এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ভোটের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা না হলেও মামদানি বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় কুয়োমো ইতিমধ্যেই হার মেনে নিয়েছেন। নির্বাচিত হলে মামদানি হবেন নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসের প্রথম মুসলিম মেয়র।
এই জয়কে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে মধ্যপন্থিদের জন্য এক বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে দলটি কোন পথে এগোবে তা নিয়ে বিভক্ত ছিল। বিশেষ করে ট্রাম্পপন্থী কট্টর ডানপন্থার মোকাবিলায় দিশাহীনতা ছিল স্পষ্ট।
উগান্ডায় জন্ম নেওয়া মামদানি নিউইয়র্কের ব্যয়বহুল জীবনযাত্রা, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং বিনামূল্যে শিশুসেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেষ সময়ে ব্যাপক জনসমর্থন আদায় করেন। প্রথমদিকে জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকলেও শেষ ধাপে জনগণের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন তিনি।
এই প্রাথমিক নির্বাচনের ফল নিয়ে ট্রাম্প মামদানিকে আক্রমণ করে বলেন, ‘সে একশ শতাংশ কমিউনিস্ট পাগল।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা তাকে মনোনয়ন দিয়ে সীমা অতিক্রম করেছে।’
বিজয়োত্তর বক্তব্যে মামদানি বলেন, ‘আজ রাতে আমরা নিউইয়র্কের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছি।’ একইসঙ্গে তিনি জানান, তার এই জয় ভবিষ্যতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য একটি নতুন দিকনির্দেশনা হয়ে উঠবে।
নিউইয়র্কে ‘র্যাংকড-চয়েস ভোটিং’ পদ্ধতিতে নির্বাচন হওয়ায় এখনো সব ভোট গণনা শেষ হয়নি। তবে ৯৫ শতাংশ ভোট গণনায় মামদানি পেয়েছেন ৪৩ শতাংশ ভোট, আর কুয়োমো পেয়েছেন ৩৬ শতাংশ। ফলে কুয়োমোর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে।
সাবেক গভর্নর কুয়োমো, যিনি যৌন হয়রানির অভিযোগ ও কোভিড ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার কারণে চার বছর আগে পদত্যাগ করেন, মামদানিকে ফোন করে পরাজয় স্বীকার করেছেন।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই তরুণ রাজনীতিক ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার সমর্থনে লড়ছেন। তিনি ফিলিস্তিনপন্থি অবস্থান এবং ইসরায়েলবিরোধী মন্তব্যের জন্য বহু বিতর্কেও এসেছেন। তবে এতে তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। বরং সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কোর্টেজের মতো প্রগতিশীল নেতারা তার পক্ষে সরব ছিলেন।
ওকাসিও কোর্টেজ ‘এক্স’-এ এক পোস্টে লিখেছেন, ‘লবিস্ট আর ধনীরা কোটি কোটি টাকা ঢেলেছে তোমার বিরুদ্ধে, তবু তুমিই জয়ী হয়েছো।’
বর্তমানে নিউইয়র্কের কুইন্সের স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান মামদানি তার নির্বাচনী প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, ফ্রি বাস-যাত্রা এবং সবার জন্য শিশুসেবা নিশ্চিতের ওপর। যেখানে শহরের তিন বেডরুমের একটি ফ্ল্যাটের ভাড়া ৬ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে, সেখানে তার এই বার্তা সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ভোটার ইমন হারকিন বলেন, ‘নিউইয়র্কে সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন খরচ। যারা ভাড়াটিয়া, তাদের জন্য কিছু করা জরুরি। মামদানি সেটাই করেছেন।’
