আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কাছে আবেদন করেছেন কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির ১৭৩ জন আইনজীবী। সোমবার (২৭ এপ্রিল) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ তথ্য জানান।
বিবৃতিতে আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬’-এর মাধ্যমে দেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত সংগঠনের স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
তারা আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পর্বে নেতৃত্বদানকারী একটি দলকে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া নিষিদ্ধ করা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী। এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলেও তারা দাবি করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার আওতায় রয়েছে। কিন্তু উল্লিখিত আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে সেই বাধ্যবাধকতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে আইনজীবীরা উল্লেখ করেন।
আইনজীবীরা জানান, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার লক্ষ্যে তারা জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ে এই আবেদন জমা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে বিষয়টির মানবাধিকারগত দিক আন্তর্জাতিক মহলের সামনে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।
তারা আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবেদনসংক্রান্ত মূল তথ্যসমূহ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| আবেদনকারী | কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির ১৭৩ জন আইনজীবী |
| আবেদনের তারিখ | ২৭ এপ্রিল |
| প্রাপক | জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার |
| মূল দাবি | আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার |
| সংশ্লিষ্ট আইন | সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬ |
| আইনি যুক্তি | সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ ও মৌলিক অধিকার |
| উত্থাপিত বিষয় | আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়া |
| সম্ভাব্য প্রভাব | কূটনৈতিক সম্পর্কের অনিশ্চয়তা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব |
আইনজীবীরা তাদের বিবৃতিতে পুনরায় উল্লেখ করেন, বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে উপস্থাপন করাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য এবং তারা আশা করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
