ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে টানা মৌসুমী বৃষ্টির ফলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে গুয়াহাটিভিত্তিক সংবাদ সংস্থা এএফপি।
ভারতে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়জুড়ে চলে মৌসুমী বর্ষা। এ সময় প্রচণ্ড গরমের পর স্বস্তি নিয়ে এলেও, এর সঙ্গে আসে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা। প্রতিবছর এই সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাণহানি ঘটে।
আসামের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। টানা তিন দিন ধরে প্রবল বৃষ্টিতে রাজ্যের বহু শহরাঞ্চল পানিতে ডুবে গেছে। বন্যার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় আসামের ১২টি জেলায় জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট।
ব্রহ্মপুত্র এবং এর শাখা নদীগুলোর পানি বিপদসীমার ওপরে উঠে গেছে। নদীর পাড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে, এতে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে।
রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিচু এলাকার বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে নগর কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঝুঁকি থাকায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। দুর্গত এলাকায় চালসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ পাঠানো হয়েছে এবং উদ্ধারকারী দল মোতায়েন রয়েছে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভারতে গত কয়েক বছরে বৃষ্টিপাত ও বন্যার তীব্রতা বেড়েছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার জটিল মৌসুমী বৃষ্টিপাত ব্যবস্থার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকৃত প্রভাব নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।
এদিকে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ভারতের অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বাইতেও মৌসুমী বৃষ্টি শুরু হয়েছে, যা গত ২৫ বছরে সবচেয়ে আগাম বর্ষা বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণত জুনের মাঝামাঝি এই অঞ্চলে বর্ষা নামে।
