ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতিতে হার্ভার্ড ছাড়তে চাইছেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর নীতির কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বুধবার ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন পরিষেবা বিভাগের পরিচালক মৌরিন মার্টিন আদালতে দাখিল করা এক মামলায় উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ বিকল্প প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইছেন।

ট্রাম্প তার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদেশি শিক্ষার্থী ও স্কলারদের আতিথেয়তায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেন। এতে প্রায় ১০ লাখ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

মার্টিন জানান, প্রেসিডেন্টের এসব পদক্ষেপের ফলে হার্ভার্ডের ছাত্র, স্কলার ও কর্মীদের মধ্যে ‘গভীর ভয়, উদ্বেগ এবং বিভ্রান্তি’ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মানসিক চাপের কথা জানাচ্ছেন, যা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে বাধা সৃষ্টি করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ডের ভর্তি শিক্ষার্থীদের ২৭ শতাংশই আন্তর্জাতিক ছাত্র। অনেকে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভয় পাচ্ছেন। কেউ কেউ দেশ ত্যাগের পর যুক্তরাষ্ট্রে পুনঃপ্রবেশের অনিশ্চয়তার ভয়ে ভ্রমণ পরিকল্পনাও বাতিল করেছেন।

এছাড়া, অনেক দেশি শিক্ষার্থীও এমন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আগ্রহী নয়, যেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী থাকবে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

উল্লেখ্য, আইভি লীগভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করলে আদালত হার্ভার্ডকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও আতিথেয়তা বন্ধ রাখার নির্দেশ স্থগিত করেন এবং পদক্ষেপটিকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেন।