ইয়েমেনে নতুন হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করল হুথি বিদ্রোহীরা

ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও আশপাশের এলাকায় নতুন করে অন্তত ১০টি বিমান হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে দেশটির হুথি বিদ্রোহীরা। সোমবার চালানো এ হামলায় সানার সাওয়ান এলাকায় অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হুথি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। খবর দিয়েছে হুথি পরিচালিত সংবাদ সংস্থা সাবা।

সাবার প্রতিবেদনে বলা হয়, সানার আরবাইন সড়কে দুটি এবং বিমানবন্দর সড়কে একটি মার্কিন হামলা হয়েছে। এর আগে, আরও দুটি হামলা ও ধারাবাহিক বোমাবর্ষণের ঘটনাও ঘটে বলে জানায় সংস্থাটি।

এএফপির একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, রাজধানী সানায় একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে সানা শহরটি হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, গতকাল ইসরায়েলের প্রধান বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় হুথিদের চালানো হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এ হামলা চালিয়েছে। এর আগে এপ্রিলের শেষ দিকে সানায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ৮ জন আহত হওয়ারও দাবি করেছিল হুথিরা।

হুথি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলীয় সাদা প্রদেশসহ ইয়েমেনের আরও কিছু এলাকায়ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঘটনা ঘটেছে।

প্রসঙ্গত, গাজা যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল ও লোহিত সাগরের নৌপথ লক্ষ্য করে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথিরা। সংগঠনটি জানিয়েছে, এসব হামলা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতির অংশ।

গত দুই মাসের যুদ্ধবিরতির সময় হামলা বন্ধ রাখলেও মার্চে গাজা অবরোধের প্রতিবাদ জানিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দেয় হুথিরা। এরপর ১৫ মার্চ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে হুথিদের লক্ষ্য করে নিয়মিত বিমান হামলা শুরু করে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, লোহিত সাগর ও গালফ অব এডেনে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন রক্ষার লক্ষ্যে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। জানা গেছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে শুরু হওয়া এ অভিযান বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে আরও জোরদার হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে ১ হাজারেরও বেশি হামলা চালানো হয়েছে।