মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী বাণিজ্য নীতির প্রেক্ষাপটে বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রাজিল, চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য ব্রিকস সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রিও ডি জেনেইরোতে এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এ দুই দিনের বৈঠকের লক্ষ্য — ট্রাম্প প্রশাসনের একপেশে বাণিজ্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থান গড়ে তোলা।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে টানাপোড়েন দেখা দেওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানোর পর, ব্রাজিলে আয়োজিত এই বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইরান, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ১১ সদস্যের এই জোট আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আলোচ্যসূচি নির্ধারণেও কাজ করছে।
ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওরো ভিয়েরা বৈঠকে বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে ব্রিকসের ভূমিকা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপ করলে, পাল্টা জবাবে বেইজিংও মার্কিন পণ্যের ওপর ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসায়। চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকারী ঝাও চেনসিন একে যুক্তরাষ্ট্রের দমনমূলক নীতি আখ্যা দেন।
২০০৯ সালে গঠিত ব্রিকস জোট বর্তমানে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনগণ ও বৈশ্বিক মোট জিডিপির ৩৯ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে। জোটটি ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা সংকটসহ বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছে।
গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় ভিয়েরা ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। ইউক্রেন ইস্যুতে ব্রিকস সাধারণত শান্তির ডাক দিলেও সরাসরি রাশিয়ার নিন্দা এড়িয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, ব্রিকস বৈঠকে ডলারের আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। গত বছর ডলারবহির্ভূত লেনদেন বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, অভিন্ন ব্রিকস মুদ্রা চালুর পরিকল্পনা এখনও নেই।
ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে চীনের তুলনায় ব্রাজিল তুলনামূলক কম চাপের মুখে পড়েছে। ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর মাত্র ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
মঙ্গলবারের বৈঠকে আরও ৯টি অংশীদার দেশ অংশ নেবে, যার মধ্যে সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র, কিউবা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা ও নাইজেরিয়া রয়েছে।
