বাড়ানো হতে পারে সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়সসীমা। এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত, এটি বাস্তবায়নের জন্য শিগগিরই নির্দেশনা দেওয়া হবে, জারি হবে প্রজ্ঞাপন। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।বয়সসীমা বাড়ানোর প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, দেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি। দেশের মানুষের বর্তমান গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭১ বছর ৬ মাস। কয়েক বছর পূর্বেও এই গড় আয়ু ছিল ৭০ বছরের নিচে।
প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের দক্ষ জনশক্তিকে আরও দীর্ঘ সময় কাজে রাখাকেও কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সচিব পর্যায়ে চাকরির স্থায়িত্ব গড়ে মাত্র ১৩ মাস। এতো স্বল্প সময় এত বড় পর্যায়ের কাজের জন্য উপযোগী নয়। কারও কারও মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এমন সময়ে একজনকে সচিব করা হয় যখন চাকরি থাকে মাত্র বছর খানেক বা এরও কম। ক্ষেত্রবিশেষে একজন কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ সম্মান দিতেই সচিব করা হয়। কিন্তু ওই পদে যাওয়ার পর তিনি কাজে দক্ষতা প্রকাশের সময় পান না তেমন।

বাড়ানো হতে পারে সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়সসীমা
একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার মতে, সচিব পদে কাজ বুঝে উঠতেই বছরখানেক সময় লেগে যায়। একজন সচিবকে ওই পদে তার দক্ষতা প্রমাণের জন্য নূন্যতম তিন বছর থাকা উচিত। অথচ সম্প্রতি একজন স্বাস্থ্য সচিব হয়ে অবসরে যাওয়ার আগে সময় পেয়েছেন মাত্র ১০ মাস।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সম্প্রতি সামরিক বাহিনীর প্রধানদের ওই পদে থাকার মেয়াদ চার বছর করা হয়েছে। তাহলে সচিবদের মেয়াদ বাড়াতে কেন উদ্যোগ নেওয়া হবে না?
সমীক্ষা সূত্রে জানা গেছে, ভারতে সচিব পদের গড় মেয়াদকাল ছয় বছর। আর পাকিস্তানে এর মেয়াদ গড়ে চার বছর।
প্রশাসনে গতিশীলতা ধরে রাখার জন্য বাংলাদেশে সচিব পর্যায়ে রিটায়ারের পর অনেকক্ষেত্রেই শূন্যস্থান পূরণের জন্য বাধ্য হয়ে চুক্তিভিত্তি নিয়োগের শরণাপন্ন হতে হয়। সরকার এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে। সরকারি চাকরির মেয়াদ বাড়ালে সচিব পর্যায়ের স্থায়িত্ব বাড়বে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও কিছুটা কমবে।
বর্তমানে সরকারি চাকরির অবসরে যাওয়ার বয়স ৫৯ বছর। এক বছর বাড়ানো চূড়ান্ত হলে অবসরের বয়সসীমা হবে ৬০। এর আগে সরকারি চাকরির অবসরে যাওয়ার বয়স ৫৭ থেকে ৫৯ বাড়ানো হয়।