সাইবার নিরাপত্তা ও চলমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে গভর্নরের সাথে মতবিনিময়।
দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বাংলাদেশ কিভাবে এগোচ্ছে তা জানতে চায় ফেড প্রতিনিধি দল।
বিশেষ প্রতিনিধি; জিলাইভ২৪.কম
ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক এর ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে নিউইয়র্ক ফেড এর সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, রিলেশনশিপ ও হিসাব সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারাও ছিলেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক।
গভর্নর এর সাথে বৈঠকের আগে ফেড প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ ও ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সাথে নিউইয়র্ক ফেড এ রাখা বাংলাদেশের রিজার্ভ ব্যবস্হানায় নিরাপত্তা নিয়েও বিশদ আলোচনা করে।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারীতে নিউইয়র্ক ফেড এ গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হওয়ার পর এটাই ফেড প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রথম সফর।
মূখপত্র মেজবাউল হক জিলাইভ২৪.কম কে বলেন এটি রুটিন ‘ক্লায়েন্ট কল’। তবে প্রতিনিধিদলটি গভর্নরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন।
নিউইয়র্ক ফেড এ বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে আন্তর্জাতিক লেনদেন করা হয়।
মূখপত্র বলেন, তারা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন লেনদেনে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি-না; কি করলে সেবা আরো ভালো করা যায়।
গভর্নরের সঙ্গে হওয়া আলোচনার বিষয়ে মেজবাউল হক বলেছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির চলমান অবস্থা নিয়ে গভর্নরের ধারণা কেমন; আমরা কিভাবে এগোচ্ছি তা জানতে চেয়েছেন তারা।
বাংলাদেশের কাছে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগই রয়েছে ফেড এর হিসাবে। নগদ ও বিনিয়োগ আকারে এ অর্থ রাখা হয়েছে।
এ হিসাব থাকা অর্থ থেকেই ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে (ফেড) রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়েছিল হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফটের সার্ভারে ম্যালওয়্যার পাঠিয়ে হ্যাকিং করেছিল হ্যাকার দলটি।
ওই অর্থ ফিলিপাইনের স্থানীয় মুদ্রা পেসোর আকারে চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোতে।
এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে ফিলিপিন্স সরকার বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দিলেও বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার আর পাওয়া যায়নি।
রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখের মধ্যে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার উদ্ধারে ২০২০ সালে মামলা করেছিল বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই মামলা এখনো নিস্পত্তি হয়নি।
সেই ঘটনায় সুইফট সিস্টেমের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসলেও ফেডের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি দল আসেনি।
২০১৬ সালে রিজার্ভ চুরির ওই ঘটনা বাংলাদেশের মানুষে জানতে পারে এক মাস পর, ফিলিপিন্সের সংবাদ মাধ্যমের খবরে। তখন বিশ্বজুড়ে ঘটনাটি আলোড়ন তুলেছিল।
ওই ঘটনার জেরে তখনকার গভর্নর আতিউর রহমানকে পদত্যাগ করতে হয়। দুই ডেপুটি গভর্নরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
কিন্তু রিজার্ভ সংরক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।
সেসময় রাজধানীর মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়; যার চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো আদালতে জমা দেয়নি পুলিশ।
০১-০৩-২০২৩ ইং। সময়: ২২:৪০ ঘন্টা।
