বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ক্রীড়া টেবিল টেনিসকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে নতুন কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন। এর অংশ হিসেবে জাপানের অভিজ্ঞ কোচ ইউতাকা নাকানোকে দুই বছরের জন্য জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বুধবার মধ্যরাতে ঢাকায় পৌঁছে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন এবং শিগগিরই জাতীয় দল ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে ফেডারেশন একটি এডহক কমিটির অধীনে পরিচালিত হওয়ায় প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। যে কোনো সময় নির্বাচন বা কমিটির পুনর্গঠন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি কোচ নিয়োগকে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। তবে ফেডারেশনের কর্মকর্তারা এটিকে একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, যার লক্ষ্য হলো দেশের টেবিল টেনিসে ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়ানো।
চলতি বছর বাংলাদেশের টেবিল টেনিস ক্যালেন্ডার অত্যন্ত ব্যস্ত। সামনে রয়েছে কমনওয়েলথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ, এশিয়ান গেমস, এশিয়ান যুব টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ, সাউথ এশিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ এবং সাউথ এশিয়ান গেমস। এসব প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে জাতীয় র্যাংকিংয়ের শীর্ষ ১৬ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারী খেলোয়াড়কে নিয়ে এশিয়ান গেমসের জন্য বিশেষ সিলেকশন ক্যাম্প শুরু হবে, যেখানে নতুন কোচের তত্ত্বাবধানে খেলোয়াড়দের দক্ষতা যাচাই ও উন্নয়ন করা হবে।
ইউতাকা নাকানো একজন সাবেক জাপানি টেবিল টেনিস খেলোয়াড়, যিনি কোচ হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এর আগে ২০২২ সালে তিনি বাংলাদেশে একটি বেসরকারি ক্লাবের হয়ে কাজ করেছেন এবং তরুণ খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিলেন। বাংলাদেশে পুনরায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বনামধন্য টেবিল টেনিস অ্যাকাডেমিতে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যেখানে আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে তিনি সুনাম অর্জন করেন।
প্রধান কোচ হিসেবে নাকানোর দায়িত্ব হবে বহুমাত্রিক ও কৌশলগত। তিনি জাতীয় সিনিয়র ও জুনিয়র দলের জন্য আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবেন। পাশাপাশি নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান এবং খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে ফেডারেশনকে প্রতিবেদন দেওয়া তার কাজের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
নিচে তার দায়িত্ব ও প্রত্যাশিত ফলাফলের একটি পরিমার্জিত সারণি উপস্থাপন করা হলো—
| দায়িত্বের ক্ষেত্র | নির্ধারিত কার্যক্রম | প্রত্যাশিত ফলাফল |
|---|---|---|
| প্রশিক্ষণ উন্নয়ন | আধুনিক কোচিং পদ্ধতি চালু | আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জন |
| প্রতিভা অনুসন্ধান | নতুন খেলোয়াড় নির্বাচন ও প্রশিক্ষণ | ভবিষ্যৎ জাতীয় দল গঠন |
| প্রতিযোগিতা প্রস্তুতি | কৌশলগত পরিকল্পনা ও ম্যাচ প্রস্তুতি | ভালো আন্তর্জাতিক ফলাফল |
| ফিটনেস ব্যবস্থাপনা | নিয়মিত মনিটরিং ও বিশ্লেষণ | পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা |
| প্রতিবেদন প্রদান | মূল্যায়নভিত্তিক রিপোর্ট | উন্নয়ন পরিকল্পনার কার্যকারিতা বৃদ্ধি |
বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এ এম মাকসুদ আহমেদ সনেট বলেন, “আমরা আশাবাদী, ইউতাকা নাকানোর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বাংলাদেশের টেবিল টেনিস নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।”
তিনি আরও জানান, প্রতিটি বড় প্রতিযোগিতার জন্য আলাদা দল গঠন করে লক্ষ্যভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। নারী দলের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য প্রাক্তন জাতীয় চ্যাম্পিয়ন সালেহা সেতুকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সার্বিকভাবে, জাপানি কোচ নিয়োগের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের টেবিল টেনিসে একটি নতুন যুগের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ প্রশিক্ষণ এবং ধারাবাহিক তদারকির মাধ্যমে এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত ও শক্তিশালী হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের
