উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী হলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও ২৪৫ নং (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩) আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য। তিনি ২০১১ সালে উপনির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি তারিখে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে টানা তিনবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি নবম জাতীয় সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, দশম সংসদে পার্বত্যচট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন।

উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

প্রাথমিক জীবন

এক ভাই এক বোনের মধ্যে র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী পিতা-মাতার জ্যেষ্ঠ সন্তান। তিনি ১৯৫৫ সালের ১ মার্চ তৎকালীন কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মোঃ আব্দুর রউফ চৌধুরী এবং মাতা মোসাম্মৎ হালিমা খাতুন চৌধুরী।

শিক্ষাজীবন

মোকতাদির চৌধুরী প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন চিনাইর ও নারায়ণগঞ্জে। এরপর মাদ্রাসা-ই-আলীয়া ঢাকা থেকে ফাজিল পাস করার পর ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের ছাত্রদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রথম সাধারণ সম্পাদক।

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

 

রাজনৈতিক ও কর্মজীবন

তিনি ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের মুজিব বাহিনীর অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে তার একটি পা আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ১৯৭৩-৭৪ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং  ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠন হলে ২১ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনোনীত হন।

১৯৭৫ সনে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলে তিনি দেশব্যাপী গণতান্ত্রিক ছাত্রআন্দোলন ও প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখেন।

১৯৭৫ সালের ২০ অক্টোবর শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিলের নেতৃত্বদান ও ৪ নবেম্বর ঢাকার রাজপথে প্রথম প্রতিবাদ মিছিলের অন্যতম সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৬ সনের অক্টোবরে গ্রেফতার হয়ে প্রায় ২ বছর কারাবরণ করেন এবং ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে মাসে হাইকোর্টের নির্দেশে মুক্তি পান।

 

উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

১৯৮৩ সনের বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন এবং ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার একান্ত-সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৬ সনে খালেদা জিয়া কর্তৃক একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের অফিসারদের নিয়ে গঠিত জনতার মঞ্চের অন্যতম সংগঠক হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে দুইবার সদস্য মনোনীত হন। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি ২০১৯ সালের ২৮ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য মনোনীত হন।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment