মো: আয়েন উদ্দিন (জন্ম: ১০ ডিসেম্বর ১৯৭৬) বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার রাজনীতিবিদ যিনি ৫৪, রাজশাহী-০৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য।
Table of Contents
আয়েন উদ্দিন | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

জন্ম ও শিক্ষাজীবন
মো: আয়েন উদ্দিন ১০ ডিসেম্বর ১৯৭৬ সালে তার পৈতৃক বাড়ি রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলার মহিষকুন্ডি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
কর্মজীবন
মো: আয়েন উদ্দিন ছাত্র জীবন থেকেই সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে রাজশাহী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বিতর্ক
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বদান কারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এমপি হলেও তার পিতা হবির মণ্ডল রাজশাহী জেলার মোহনপুরের ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের মহিষকুণ্ডি গ্রামের শান্তি কমিটির ৩ নম্বর সদস্য ছিলেন। প্রভাষক মো. বাবলুর রহমানের লেখা ‘একাত্তরের মোহনপুর’ বইয়ে এই তথ্য ওঠে এসেছে। এটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে।

একাত্তর টিভিতে “ইউপি নির্বাচনের মনোনয়ন চাওয়ায় সাম্প্রদায়িক গালি দিলেন” শিরনামে একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়, যা রাতারাতি ভাইরাল হয়। এতে রায়ঘাটি ইউনিয়নের মনোনয়ন চাওয়ায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের মোহনপুর উপজেলার সভাপতি সুরঞ্জিত সরকারকে তিনি বলেন, ‘তোরা জাইত হিন্দু, তোরা শালা ক্রিমিনাল।’ সুরঞ্জিতকে গালাগালিও করেন এমপি।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইচ্ছা মতো লাল নিশান টানিয়ে মানুষের শত শত বিঘা ফসলি জমি দখল করার অভিযোগও রয়েছে আয়েন উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

সংসদ সদস্য:
সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।
পরিচিতি
সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

অবস্থান
সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।
সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।
আরও দেখুনঃ