ব্যারিস্টার আমিনুল হক ছিলেন একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী। তিনি রাজশাহী-১ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
Table of Contents
আমিনুল হক | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

প্রারম্ভিক জীবন
আমিনুল রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার কেল্লাবাড়ুইপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ফাহিম উদ্দিন বিশ্বাস ও মাতার নাম আনোয়ারা খাতুন। শিক্ষাজীবনে তিনি আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাজনৈতিক জীবন
১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমিনুল-হক বিএনপির মনোনয়নে রাজশাহী-১ আসন থেকে নির্বাচন করে ৬১,৯৭৫ ভোট লাভ করেন ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. মহসীনকে পরাজিত করে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির একদলীয় নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮৩,৯৯৪ ভোট পেয়ে ও ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে ১,৩০,৬৩১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন।
২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি ১০ অক্টোবর ২০০১ তারিখে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২৯ অক্টোবর ২০০৬ তারিখ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।

অভিযোগ ও কারাবরণ
২০০৫ সালে আমিনুল মন্ত্রী থাকাকালীন বিএনপি নেতা রাজশাহী-৩ আসনের তৎকালীন সাংসদ আবু হেনা, আমিনুলের বিরুদ্ধে উদ্রবাদী নেতা বাংলা ভাইকে মদদ দেওয়ার অভিযোগ আনেন। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে বাংলা ভাই’র ফাঁসি কার্যকরের প্রাক্কালে ইসলামী জঙ্গিবাদের মদদ দাতাদের মধ্যে একজন হিসেবে আমিনুলের নাম বলেন। ২০০৭ সালের জুলাইতে তার অবর্তমানে রাজশাহীর জেলা আদালত আমিনুলকে ২০০৪ সালে বাগমারা উপজেলায় জঙ্গী সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশকে মদদ ও মানুষকে নির্যাতনের অভিযোগে ৩০ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে।
২০০৯ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ফ্রন্টলাইন ওয়ার্ল্ড প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে ২০০৪ সালে মন্ত্রী থাকাকালীন জার্মান টেলিযোগাযোগ কোম্পানি সিমেন্সকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়। ২০০৯ সালের জুলাইতে আমিনুল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ও তাকে জেলে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পান। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্যারাডাইস পেপার্সে নাম আসা ৫০ জন বাংলাদেশীদের মধ্যে আমিনুল একজন বলে উল্লেখ করেন।

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন
আমিনুল-হক ব্যক্তিগত জীবনে আভা হকের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার ভাই এনামুল হক বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজি। ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
আরও দেখুনঃ