নোয়াখালীর সদর উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (গোয়েন্দা পুলিশ) অভিযানে ১৪০০ লিটার অবৈধভাবে মজুদ করা ডিজেল, একটি ভাউচার গাড়ি এবং চারজনকে আটক করা হয়েছে। বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে জ্বালানি তেল মজুদ করা হয়েছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে অভিযান পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে রাত পৌনে বারোটার দিকে সদর উপজেলার মটুয়া ইউনিয়নের উদয় সাধুর হাট দক্ষিণ বাজার এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। ওই স্থানের নাম আব্দুল মালেক অয়েল স্টোর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে অবৈধভাবে ডিজেল মজুদ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া যায়।
অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে ১৪০০ লিটার ডিজেল এবং একটি লাল রঙের ভাউচার পরিবহন গাড়ি জব্দ করা হয়। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এসব জ্বালানি তেল নিয়মবহির্ভূতভাবে সংরক্ষণ করে বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে।
শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনউদ্দিন। তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাদের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আটক চারজনই নোয়াখালী সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তাদের বয়স ও পরিচয় নিম্নরূপ—
| নাম | বয়স | পরিচয়/ভূমিকা |
|---|---|---|
| মো. রাশেদ | ৩৮ বছর | আটক ব্যক্তি |
| মো. নাছির উদ্দিন | ৪৭ বছর | ভাউচার গাড়ির চালক |
| মো. শিহাব উদ্দিন | ২২ বছর | আটক ব্যক্তি |
| মো. মাকসুদ | ৩২ বছর | আটক ব্যক্তি |
গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুদ ও বাজারজাত করার অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়। জব্দকৃত ডিজেল ও পরিবহন গাড়ি পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এ ধরনের অবৈধ জ্বালানি মজুদ ও বিক্রয় কার্যক্রম দেশের প্রচলিত জ্বালানি সংক্রান্ত বিধিমালা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
