আনোয়ারুল কবির তালুকদার শাহজাদা (১ জানুয়ারি ১৯৪৪-১০ মে ২০২০) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাবেক রাজনীতিবিদ। তিনি জামালপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।
Table of Contents
আনোয়ারুল কবির তালুকদার | বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ

কর্মজীবন
আনোয়ারুল কবির-তালুকদার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন এবং মেজর জেনারেল হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন। জামালপুর-৪ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় প্রথমে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী পরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেন। বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির প্রতিবাদে তিনি পদত্যাগ করেন। সরকার থেকে বলা হয় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
২৬ অক্টোবর ২০০৬ তারিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তার মতে বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির প্রতিবাদে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। ঐ বছর তিনি লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে যোগ দেন। পার্টির নেতৃত্বের সাথে নীতিগত পার্থক্য নিয়ে ৫ জানুয়ারী ২০০৯ তারিখে তিনি লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে ও পদত্যাগ করেন।

ব্যক্তিগত জীবন
তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তিনি প্রাক্তন মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিত আব্দুস সালাম তালুকদারের (১৯৩৬-১৯৯৯) ভাগ্নে ছিলেন।
মৃত্যু
আনোয়ারুল কবির-তালুকদার ১০ মে ২০২০ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মৃত্যুবরণ করেন।
সংসদ সদস্য সম্পর্কে তথ্যঃ
সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।
পরিচিতি
সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

অবস্থান
সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।
সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।
আরও দেখুনঃ