,

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মোট ৭৯

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুটির বয়স সাড়ে সাত মাস। শনিবার রাতে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শিশুটির বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায়। হাম ছাড়াও সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল।

এ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯। টিকা দেওয়ার পরও রোগটির সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে নতুন করে ৫৪ শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে মোট ১৩৮ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। নতুন রোগী ভর্তির এই সংখ্যা হাসপাতালের শিশু বিভাগে চিকিৎসাসেবা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এনেছে।

হাসপাতালের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৭ মার্চ থেকে প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট ৫ হাজার ২২২ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫ হাজার ৫ শিশু। তবে চিকিৎসাধীন শিশুদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে ফুসকুড়ির মাধ্যমে এর লক্ষণ প্রকাশ পায়। কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ছোট শিশুদের মধ্যে, এ রোগ নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অন্যান্য জটিলতা তৈরি করতে পারে। গুরুতর অবস্থায় আক্রান্ত শিশুর জীবনও বিপন্ন হতে পারে।

শিশুটির হাম ও নিউমোনিয়া—দুই ধরনের অসুস্থতা ছিল বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে তার মৃত্যুর ক্ষেত্রে কোন জটিলতা কতটা ভূমিকা রেখেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

হাম প্রতিরোধে টিকাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে টিকা নেওয়ার পরও সব ক্ষেত্রে শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত হয় না। শিশুর বয়স, টিকার ডোজ সম্পূর্ণ হয়েছে কি না এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতার মতো বিষয় সুরক্ষার মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই টিকা দেওয়ার পাশাপাশি সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

শিশুর জ্বরের সঙ্গে ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি কিংবা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অভিভাবকদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা খেতে না পারার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। হাম সন্দেহ হলে অন্য শিশুদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশনা অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি, চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হচ্ছে। তবে নতুন রোগী ভর্তি এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় সংক্রমণ প্রতিরোধ, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ এবং শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।