ঝিনাইদহে স্কুলশিক্ষিকা সাবেক স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে পলাশ হোসেন (৩১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহ শহরের উপকণ্ঠে পাগলাকানাই বেকাব্রিজ এলাকার একটি ফ্ল্যাটে।
গ্রেপ্তার পলাশ হোসেন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গাবলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জেলা শহরের একটি বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালে কাজ করেন। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান গ্রেপ্তার ও আদালতের নির্দেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারের সম্মতিতে পলাশ হোসেনের সঙ্গে সদর উপজেলার ডেফলবাড়ি গ্রামের ওই স্কুলশিক্ষিকার বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের দাম্পত্য জীবন প্রায় ছয় বছর স্থায়ী হয়। পরে ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের সময় তাঁদের একটি কন্যাসন্তান ছিল, যার বয়স ছিল দুই বছর তিন মাস।
বিবাহবিচ্ছেদের পর ওই নারী তাঁর শিশুকন্যাকে নিয়ে ঝিনাইদহ শহরের কাছাকাছি পাগলাকানাই বেকাব্রিজ এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পলাশ কৌশলে ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন।
পুলিশের কাছে করা অভিযোগে ওই নারী দাবি করেন, পলাশ শয়নকক্ষের দরজা খুলে তাঁকে ধর্ষণ করেন। এ সময় তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা ছুটে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পরদিন, ১২ অক্টোবর, ওই নারী ঝিনাইদহ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ পলাশ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে এবং তাঁকে আদালতে পাঠায়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানান ওসি আসাদুজ্জামান।
বিবাহবিচ্ছেদের পর সাবেক স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কী ধরনের যোগাযোগ ছিল, সে বিষয়ে মূল অভিযোগে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে, ঘটনার তদন্তে পুলিশ কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে সম্পর্কেও অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
যৌন সহিংসতার অভিযোগের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানো হলেও আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অভিযুক্তের অপরাধ প্রমাণিত হতে হবে। এ ঘটনায় পরবর্তী তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের ওপরই মামলার অগ্রগতি নির্ভর করবে।









