সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জোৎস্নাকে হত্যা করে তাঁর মরদেহ ছয় টুকরো করার মামলায় জিতেশ চন্দ্র গোপকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে সোমবার এ রায় ঘোষণা করা হয়।
সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লা রায় ঘোষণা করেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন নিতে হবে। এ জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর করা যাবে না। এই সময় আসামিকে কারাগারের কনডেমড সেলে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈন উদ্দিন সুহেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এর মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর মতে, এ রায় সমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে গিয়ে নিখোঁজ
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নিখোঁজ হন প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জোৎস্না। তিনি স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে গিয়েছিলেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এরপর তাঁর খোঁজ না পেয়ে স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান শুরু করেন।
পরদিন, ১৭ ফেব্রুয়ারি, স্থানীয় ওই ফার্মেসির ভেতর থেকে শাহনাজের মরদেহের ছয়টি খণ্ড উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই হেলাল আহমদ বাদী হয়ে জিতেশ চন্দ্র গোপসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে।
তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র, সাক্ষ্যগ্রহণের পর রায়
দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ জিতেশ চন্দ্র গোপের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর মামলার বিচারিক কার্যক্রমে সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়। বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলার নথিতে জিতেশের বাবার নাম যাদব চন্দ্র গোপ এবং মায়ের নাম অনিতা রানি গোপ বলে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর স্থায়ী বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায়। তিনি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের একটি মার্কেটে ফার্মেসি পরিচালনা করতেন এবং সেখানে অবস্থান করতেন।
তবে জেলা আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পরও দণ্ড কার্যকরের আগে আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বাকি থাকে। মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন। সেই পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে দণ্ডাদেশের আইনগত বৈধতা যাচাই করা হয়।
শাহনাজ পারভীন জোৎস্না হত্যা মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে জেলা আদালতের বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে উচ্চ আদালতের অনুমোদনসহ প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপর।









