সোমবারের ম্যাচে অন্বয়ের ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও পাঁচটি ছক্কা। তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২০৭.৩২। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন তিনি। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দ্রুত রান তোলার দক্ষতা দেখিয়ে দলের সংগ্রহ বড় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই তরুণ ক্রিকেটার।
দিল্লির বিপক্ষে ঝোড়ো ইনিংসটি অন্বয়ের সাম্প্রতিক ফর্মেরই ধারাবাহিকতা। এর মাত্র দুই দিন আগে চণ্ডীগড়ের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে ৬২ বলে ১০৪ রান করেছিলেন তিনি। দুই ম্যাচে পরপর বড় ইনিংস খেলে নিজের ব্যাটিং সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছেন কর্নাটকের এই তরুণ অধিনায়ক। এক ম্যাচে শতরান, পরের ম্যাচে দ্রুতগতির ৮৫—দুই ইনিংসেই রান তোলার ভিন্ন কৌশল ফুটে উঠেছে তাঁর ব্যাটিংয়ে।
অন্বয়ের দায়িত্ব অবশ্য শুধু ব্যাটিংয়ে সীমাবদ্ধ নয়। কর্নাটকের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি উইকেটকিপিংও করতে হয় তাঁকে। এই তিনটি দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানোর চাপ থাকলেও সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে তা তাঁর ব্যাটিংয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, এমন কোনো ইঙ্গিত দেখা যায়নি। বরং দলের প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত রান তোলার সামর্থ্য দেখাচ্ছেন তিনি।
ভিনু মানকড় ট্রফির আগেও ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ভালো পারফরম্যান্স করেছিলেন অন্বয়। গত জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যুব ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৬৭ বলে ৮৭ রান করেন তিনি। ওই ইনিংসে ছিল নয়টি চার ও একটি ছক্কা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের যুব ক্রিকেটে পাওয়া সেই অভিজ্ঞতা ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
অন্বয়ের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিনি শুধু দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন না; সুযোগ বুঝে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতেও পারছেন। চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে শতরান এবং দিল্লির বিপক্ষে দ্রুত ৮৫ রানের ইনিংস সেই সামর্থ্যেরই ইঙ্গিত দেয়। তবে তরুণ ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর ধারাবাহিকতা ধরে রাখা, বিভিন্ন ধরনের বোলিংয়ের বিপক্ষে মানিয়ে নেওয়া এবং চাপের পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা আরও পরিণত হয়ে ওঠাও গুরুত্বপূর্ণ।
রাহুল দ্রাবিড় ভারতীয় ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের দৃঢ়তা, ধৈর্য ও শৃঙ্খলার জন্য পরিচিত। তাঁর ছেলে অন্বয়ের সাম্প্রতিক ইনিংসগুলোতে দেখা যাচ্ছে আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের প্রতি ঝোঁক। বাবার পরিচিতি তাঁকে আলোচনায় আনলেও মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই নিজের অবস্থান তৈরি করতে হবে এই তরুণকে।
ভিনু মানকড় ট্রফিতে পরপর দুই ম্যাচে বড় রান করে অন্বয় আপাতত নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন। সামনে প্রতিযোগিতার বাকি ম্যাচগুলোতে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে তাঁর উন্নতির পথ আরও মজবুত হবে।









