,

কনকচাঁপার সংগীতজীবনে ব্যস্ততম দিন, পাঁচ স্টুডিওতে পাঁচ গান

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়তার সঙ্গে কাজ করছেন কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। সংগীতজীবনের নানা স্মৃতির মধ্যে ব্যস্ততম সময়ের একটি অভিজ্ঞতা সম্প্রতি তুলে ধরেছেন তিনি। এক দিনে পাঁচটি ভিন্ন স্টুডিওতে গিয়ে পাঁচটি গান রেকর্ড করেছিলেন এই শিল্পী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো ক্যারিয়ারে এমন ব্যস্ত দিনের অভিজ্ঞতা হয়েছে পাঁচ থেকে সাতবার।
সম্প্রতি ‘বিহাইন্ড দ্য ফেম উইথ আরআরকে’ (Behind the Fame with RRK) পডকাস্টে অতিথি হয়ে নিজের দীর্ঘ সংগীতজীবনের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন কনকচাঁপা। সেখানে উঠে আসে রেকর্ডিংয়ের ব্যস্ততা, চলচ্চিত্রের গানে কাজের অভিজ্ঞতা এবং সহশিল্পীদের সঙ্গে তাঁর পেশাগত সম্পর্কের স্মৃতি। এক দিনে পাঁচটি স্টুডিওতে পাঁচটি গান রেকর্ড করার ঘটনা তাঁর কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।
কনকচাঁপার পুরো নাম রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। বাংলা চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য তিনি বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই শিল্পী চলচ্চিত্রে সাড়ে তিন হাজারের বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর রয়েছে ৪০টিরও বেশি একক অ্যালবাম। দীর্ঘ সময় ধরে চলচ্চিত্রের গান ও একক সংগীতে কাজ করে তিনি শ্রোতাদের কাছে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।
এক দিনে পাঁচটি ভিন্ন স্টুডিওতে গিয়ে পাঁচটি গান রেকর্ড করার অভিজ্ঞতা থেকে সে সময়ের সংগীতাঙ্গনের কর্মব্যস্ততার ধারণা পাওয়া যায়। প্রতিটি গানের জন্য কণ্ঠের প্রস্তুতি, সুরের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং সংগীত পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশনা গুরুত্বপূর্ণ। একাধিক স্টুডিওতে কাজ থাকলে সময়ের হিসাব মেলানোও জরুরি হয়ে পড়ে। কনকচাঁপার স্মৃতিচারণে তাঁর পেশাগত জীবনের এই ব্যস্ত দিকটি উঠে এসেছে। তবে ওই দিনগুলোর নির্দিষ্ট সময়সূচি কিংবা গানগুলোর নাম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পডকাস্টে প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহ অভিনীত চলচ্চিত্রের গান নিয়েও কথা বলেন কনকচাঁপা। তিনি জানান, সালমান শাহ অভিনীত দুটি চলচ্চিত্রের গানে সহশিল্পী হিসেবে কণ্ঠ দিয়েছিলেন তিনি। নব্বইয়ের দশকে সালমান শাহ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর অভিনীত সিনেমার পাশাপাশি সেসব চলচ্চিত্রের গানও দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলেছিল। সেই সময়ের চলচ্চিত্রের সংগীতের সঙ্গে কনকচাঁপার সম্পৃক্ততার বিষয়টি তাঁর স্মৃতিচারণে নতুন করে উঠে আসে।
এ ছাড়া চলচ্চিত্রের গানে প্রয়াত কণ্ঠশিল্পী অ্যান্ড্রু কিশোরের সঙ্গে তাঁর সবচেয়ে বেশি কাজ হয়েছে বলে জানান কনকচাঁপা। অ্যান্ড্রু কিশোর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর কণ্ঠে অসংখ্য গান জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং বাংলা সিনেমার সংগীতে তিনি স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করেছেন। কনকচাঁপার সঙ্গে তাঁর কাজের সম্পর্কও চলচ্চিত্রের গানের ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য অংশ।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে গানের ভূমিকা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। একটি সিনেমার আবেগ, গল্পের বাঁক কিংবা চরিত্রের অনুভূতি প্রকাশে গান বিশেষ ভূমিকা রাখে। এ জন্য কণ্ঠশিল্পীদের পাশাপাশি গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও রেকর্ডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়। চলচ্চিত্রের গানের ব্যস্ত সময়ে একজন শিল্পীকে একাধিক প্রযোজনার কাজে যুক্ত থাকতে হতো। কনকচাঁপার অভিজ্ঞতা সেই কর্মপরিবেশের একটি দিক তুলে ধরে।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে হাজারো চলচ্চিত্রের গান ও বহু একক অ্যালবামের মাধ্যমে শ্রোতাদের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন কনকচাঁপা। তাঁর এক দিনে পাঁচটি স্টুডিওতে পাঁচটি গান রেকর্ড করার স্মৃতি কেবল কাজের ব্যস্ততার গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সংগীতে শিল্পীদের পরিশ্রম, পেশাদারত্ব ও ধারাবাহিক অবদানের কথাও মনে করিয়ে দেয়। তাঁর এই অভিজ্ঞতা সংগীতাঙ্গনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের কর্মপরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দেয়।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।