চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা নদীতে জেলেদের ধাওয়া করতে গিয়ে নৌ-পুলিশের একটি স্পিডবোট ডুবে গেছে। পরে নদী থেকে স্পিডবোটটি উদ্ধার করা হলেও পুলিশের একটি শটগান এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। নিখোঁজ অস্ত্র উদ্ধারে ঘটনাস্থলে ডুবুরি দল নামানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ষাটনল এলাকার সটাকি লঞ্চঘাটের কাছে। জেলেদের ধাওয়া করার সময় কী পরিস্থিতিতে স্পিডবোটটি ডুবে যায়, তা এখনো বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি। একই সঙ্গে পুলিশের শটগানটি কীভাবে নিখোঁজ হলো, সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
চাঁদপুর সদর নৌ-পুলিশের ইনচার্জ আলমগীর হোসাইন স্পিডবোটডুবি ও অস্ত্র নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযানের সময় স্পিডবোটটি নদীতে ডুবে যায়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও পুলিশের একটি শটগান নিখোঁজ হয়েছে।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ঘটনাস্থলে মতলব উত্তর থানা পুলিশ, মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ও বেলতলী পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। তাঁরা উদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন।
চাঁদপুর নৌ অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান জানান, ডুবে যাওয়া স্পিডবোটটি নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ শটগান উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে ডুবুরি দল মোতায়েন করা হয়েছে। অস্ত্রটি উদ্ধারে তল্লাশি চলছে।
এদিকে, মতলব উত্তর এলাকার নদীসীমায় চাঁদপুর নৌ-পুলিশের অভিযান পরিচালনার এখতিয়ার ও অনুমতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের কয়েকজনের দাবি, ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিটগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় ছিল কি না, তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। এ নিয়ে নৌ-পুলিশের ভেতরেও প্রশ্ন রয়েছে বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগ বা প্রশ্নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। জেলেদের ধাওয়া করার সময় নদীর পরিস্থিতি কেমন ছিল, স্পিডবোটটি কী কারণে ডুবে গেল এবং শটগানটি কোন পরিস্থিতিতে নিখোঁজ হলো—এসব বিষয় জানতে চান তাঁরা। অভিযানের সময় কোনো ধরনের সমন্বয়গত জটিলতা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের অনেকে।
পুলিশের ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। অস্ত্রটি উদ্ধার করা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযানের অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
এখন পর্যন্ত স্পিডবোটডুবির সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা নিখোঁজ শটগানের অবস্থান সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। ডুবুরি দলের তল্লাশি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বক্তব্যের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি জানা যেতে পারে।









