,

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই স্থান থেকে ২৪টি ককটেল উদ্ধার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ও জেলা শহরের দুটি পৃথক স্থান থেকে ২৪টি ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত এসব বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের একটি লেবুবাগানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় ১৭টি এবং জেলা শহরের জোড়গাছি নতুন মহল্লার একটি নির্মাণাধীন বাড়ির সামনে থেকে সাতটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। বিস্ফোরকগুলো কারা এবং কী উদ্দেশ্যে সেখানে রেখেছিল, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল ৩টার দিকে সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সিটোলা মণ্ডলপাড়া এলাকার একটি লেবুবাগানে সন্দেহজনক তিনটি নতুন গর্ত দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। গর্তগুলোর কাছে লাল রঙের তিনটি বালতিও ছিল। বালতিগুলোর ভেতরে স্কচটেপে মোড়ানো ককটেল রাখা হয়েছে বলে সন্দেহ হলে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে। বিস্ফোরকের সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে খবর দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রাত সোয়া ৯টার দিকে মাটির নিচে পুঁতে রাখা তিনটি বালতি থেকে মোট ১৭টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সহায়তায় সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গর্ত ও বালতিগুলো আগে তাঁদের নজরে আসেনি। নতুন গর্তের উপস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁরা দ্রুত পুলিশকে বিষয়টি জানান। তাঁদের এই পদক্ষেপের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্ফোরকগুলো উদ্ধারের ব্যবস্থা নেয়।

তবে ককটেলগুলো কত দিন ধরে সেখানে পুঁতে রাখা হয়েছিল, কারা সেগুলো সেখানে রেখেছিল কিংবা কোনো নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তদন্তের ফলও প্রকাশ করা হয়নি।

জেলা শহরের সড়কের পাশ থেকে সাতটি ককটেল উদ্ধার

একই দিন দুপুর ১২টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের জোড়গাছি নতুন মহল্লা এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে আরও সাতটি ককটেল দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। একটি নির্মাণাধীন বাড়ির সামনে ঘাসের ওপর বিস্ফোরকগুলো এলোমেলোভাবে পড়ে ছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁরা পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ককটেলগুলো উদ্ধার করে। তবে সেগুলো সেখানে কে রেখেছিল, কতক্ষণ ধরে পড়ে ছিল কিংবা অন্য কোনো স্থানে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

একই দিনে জেলার দুটি পৃথক স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক ককটেল উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি এবং চলাচলের রাস্তার পাশে এ ধরনের বিস্ফোরক পড়ে থাকা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। শিশু-কিশোরসহ সাধারণ মানুষ অসতর্কতাবশত এসব বস্তুর কাছে চলে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

ককটেল মজুতের উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে দুই স্থানে ককটেলগুলো মজুত করেছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তদন্তে বিস্ফোরকগুলোর উৎস, সেগুলো সেখানে রাখার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং দুই স্থানের ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার বিষয় রয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

ককটেল এক ধরনের বিস্ফোরক, যা অসতর্কভাবে নাড়াচাড়া করলে প্রাণহানি বা গুরুতর আহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে কোথাও সন্দেহজনক বালতি, প্যাকেট, মাটির গর্ত বা বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু দেখা গেলে তা স্পর্শ না করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়া এবং দ্রুত পুলিশকে জানানো প্রয়োজন। এ ধরনের বস্তু পরীক্ষা ও নিষ্ক্রিয় করার কাজ প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ দলের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।

রোববারের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ২৪টি ককটেল নিষ্ক্রিয় করার তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করার খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে বিস্ফোরকগুলো মজুতের উদ্দেশ্য ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।