,

পুলিশ চলে যেতেই তাণ্ডব, স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রীর আকুতি

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে তিন ভাইয়ের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে এওজবালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের ইসমাইল ব্যাপারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিকেলে জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চলে যায়। এরপর রাতে শতাধিক সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূর্ব এওজবালিয়া ইউনিয়নের মৃত শহীদুল ইসলামের ছেলে হাসানের কাছ থেকে ১২ শতাংশ জমি কেনেন একই গ্রামের মৃত ইসমাইলের ছেলে নুরুল হুদা। জমি কেনার পর থেকেই এর দখল নিয়ে নুরুল হুদার সঙ্গে হাসানের দুই ভাই হোসেন ও জাবেদের বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য একাধিকবার গ্রাম্য সালিসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও হোসেন ও জাবেদ বৈঠকে বসতে রাজি হননি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বিকেলে হোসেন ও জাবেদের নেতৃত্বে বিরোধপূর্ণ জমিতে একটি ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হলে নুরুল হুদা ও তাঁর ভাইয়েরা বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে।

নুরুল হুদার অভিযোগ, পুলিশ চলে যাওয়ার পর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে প্রায় শতাধিক সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁদের তিন ভাইয়ের বাড়িতে হামলা চালান। হামলাকারীরা বাড়িঘর ভাঙচুর করেন, পরিবারের সদস্যদের মারধর করেন এবং ঘরে থাকা মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যান। এ হামলার পেছনে হোসেন ও জাবেদের হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, তাঁরা লোক ভাড়া করে এ হামলা চালিয়েছেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে নুরুল হুদার ভাই মাওলানা নুরুদ্দিন বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাঁকে ঘর থেকে টেনে বাইরে নিয়ে যান এবং মারধর করে হত্যার প্রস্তুতি নেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ সময় তাঁর স্ত্রী হামলাকারীদের পা ধরে স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। স্ত্রীর আকুতির একপর্যায়ে তিনি রক্ষা পান বলে দাবি করেন নুরুদ্দিন।

নুরুদ্দিন আরও জানান, হামলাকারীরা তাঁর নতুন মোবাইল ফোন, নগদ ৪৫ হাজার টাকা ও এক জোড়া কানের দুল নিয়ে গেছেন। তবে তিন ভাইয়ের বাড়ি থেকে মোট কত টাকার মালামাল লুট হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে এওজবালিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বিরোধ মেটাতে উভয় পক্ষকে সালিসি বৈঠকে বসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কেউ তাঁদের কথা শুনছেন না। নিজেদের মধ্যে মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনা চলতে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হোসেন। তাঁর দাবি, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে ঘর নির্মাণ করতে গেলে প্রতিপক্ষ তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাঁরা আহত হয়ে হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন। নুরুল হুদাদের বাড়িঘরে কারা ভাঙচুর করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। ঘটনার সময় তাঁরা হাসপাতালে ছিলেন উল্লেখ করে হোসেন বলেন, এই হামলার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের সময় ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ চলে আসার পর কারা বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জমি কেনাবেচা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ এবং পরবর্তী হামলার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, লুটপাটের অভিযোগ কতটা সত্য এবং বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের দাবির ভিত্তি কী—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। স্থানীয়ভাবে সালিসের উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় বিরোধটি আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করা এবং নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।