,

‘সাত মাসে ৩২ কূপ খননের গল্প কোথা থেকে এলো’, প্রশ্ন নসরুল হামিদের

নিজস্ব প্রতিবেদক,

বিএনপি সরকারের সাত মাসে ৩২টি কূপ খনন করে জাতীয় গ্রিডে ১৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করার দাবির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তাঁর দাবি, তালিকায় থাকা বেশ কয়েকটি কূপের পরিকল্পনা, খনন ও উন্নয়নকাজ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই শুরু হয়েছিল। ফলে এসব কূপের পুরো অর্জন বর্তমান সরকারের সাত মাসের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব প্রশ্ন তুলে ধরেন নসরুল হামিদ। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসের প্রকাশিত ৩২টি কূপ খননসংক্রান্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কূপগুলোর কাজ শুরুর সময়, প্রকল্প অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ এবং জাতীয় গ্রিডে গ্যাস যুক্ত হওয়ার সময় উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের দাবি জানান।

নসরুল হামিদ তাঁর স্ট্যাটাসে বলেন, একটি নতুন কূপ খননের কাজ শুধু রিগ বসিয়ে খনন করলেই শেষ হয় না। এর সঙ্গে সম্ভাব্য স্থান নির্বাচন, ভূতাত্ত্বিক ও ভূকম্পন জরিপ, সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকল্প অনুমোদন, অর্থায়ন, খনন, পরীক্ষা এবং উৎপাদনে নেওয়ার মতো একাধিক ধাপ জড়িত। তাঁর মতে, আগের প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন থাকলেও মাত্র সাত মাসে ৩২টি নতুন কূপের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার দাবি যাচাই করা প্রয়োজন।

যেসব কূপ নিয়ে প্রশ্ন :

স্ট্যাটাসে টবগী-১, ইলিশা-১, ভোলা নর্থ-২, শ্রীকাইল নর্থ-১, শরীয়তপুর-১, কৈলাসটিলা-৮, সিলেট-১০ ও তিতাস-২৪সহ কয়েকটি কূপের নাম উল্লেখ করেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এসব কূপের কয়েকটির কাজ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই শুরু হয়েছিল এবং অগ্রসর হয়েছিল।

উদাহরণ হিসেবে ইলিশা-১ কূপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের এপ্রিলেই সেখানে গ্যাসের স্তর আবিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছিল। অন্যদিকে কৈলাসটিলা-৮ কূপের খনন শুরু হয় ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি। একই বছরের ২৪ মে বাসসের প্রতিবেদনে কূপটির খননকাজ শেষ হওয়ার এবং সেখান থেকে প্রায় ২১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছিল।

এ ছাড়া বেগমগঞ্জ-৪ (পশ্চিম) কূপের খননকাজ ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল শুরু হয়েছিল বলেও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি।

৫০ ও ১০০ কূপের কর্মসূচির প্রসঙ্গ :

নসরুল হামিদ বলেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে দেশের গ্যাসের চাহিদা ও স্থানীয় উৎপাদনের পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁর সরকারের সময়ে একটি বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। এর আওতায় ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৬৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এ ছাড়া ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে আরও ১০০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি করেন তিনি। এ কর্মসূচির মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৯৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী।

তাঁর বক্তব্য, ২০২৪ সালের অক্টোবরের একটি খাতভিত্তিক প্রতিবেদনে ৫০ কূপ কর্মসূচির আওতায় ১৫টি কূপের খননকাজ সম্পন্ন হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। এসব কূপের মধ্যে টবগী-১, ইলিশা-১, ভোলা নর্থ-২, শ্রীকাইল নর্থ-১, শরীয়তপুর-১, কৈলাসটিলা-৮, সিলেট-১০ ও বেগমগঞ্জ-৪ পশ্চিমের নাম রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কূপ খনন হলেই গ্রিডে গ্যাস আসে না :

স্ট্যাটাসে নসরুল হামিদ আরও বলেন, কোনো কূপে গ্যাস পাওয়া গেলেই তা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। এর জন্য কূপের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা, গ্যাস পরীক্ষা, সংগ্রহব্যবস্থা, প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র এবং পাইপলাইন সংযোগ নিশ্চিত করতে হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি হারিপুর গ্যাসক্ষেত্রে অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবস্থাপনায় দৈনিক ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতার একটি নতুন প্রসেস প্ল্যান্ট স্থাপনের উদাহরণ দেন।

সবশেষে ৩২টি কূপের প্রতিটির কাজ শুরুর তারিখ, প্রকল্প অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ, রিগ মোতায়েন, খননকাজ শেষ হওয়ার সময় এবং জাতীয় গ্রিডে গ্যাস যুক্ত হওয়ার তারিখ উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের দাবি জানান নসরুল হামিদ।

তাঁর বক্তব্য, আগের সরকারের সময়ে শুরু হওয়া কোনো প্রকল্প পরবর্তী সরকার শেষ করলে সেটি পরবর্তী সরকারের কাজের অংশ হতে পারে। তবে প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করার আগে প্রকল্পের ইতিহাস ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সামনে আনা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, বাসসের ৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে পেট্রোবাংলার তথ্যের বরাতে বলা হয়েছে, গত সাত মাসে ৩২টি কূপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং সেগুলো থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৪৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ হিসাব ও প্রকল্পগুলোর সময়কাল নিয়ে নসরুল হামিদের উত্থাপিত প্রশ্নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।